কুমিল্লায় রেললাইনে নাশকতার মামলায় সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে শিবিরের আরো ১৪ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে ঘটনাস্থলের পাশের এলাকা থেকে গতকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় রেললাইনের নাট-বল্টু খোলার কাজে ব্যবহূত লোহার তৈরি একটি রেনজ (যন্ত্র) উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা রেললাইনের ফিশপ্লেট ও নাট-বল্টু খোলার কাজে যন্ত্রটি ব্যবহার করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের দিন ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর (তারাকুয়া) এলাকায় দুর্বৃত্তরা রেল লাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলে ভয়াবহ নাশকতার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় রেল পুলিশ বাদী হয়ে লাকসাম জিআরপি থানায় মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় শিবির নিয়ন্ত্রিত মেসে অভিযান চালিয়ে জালাল উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, ইসরাফিল হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, আবদুর রহমানসহ শিবিরের ১৪ কর্মীকে গ্রেফতার করে।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি আইনুল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল শ্রীমন্তপুর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে রামপুর এলাকার একটি ধানের জমি থেকে গতকাল সকালে রেললাইনের নাট-বল্টু খোলার যন্ত্রটি উদ্ধার করে। যন্ত্রটি প্রায় আড়াই ফুট লম্বা ও ওজন প্রায় ৮ কেজি। রেললাইনের ফিশপ্লেট ও নাট-বল্টু খোলার কাজে যন্ত্রটি ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি’র কুমিল্লা ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো । এদের সবাই শিবির কর্মী বলে তিনি জানান।
এদিকে ঘটনার চার দিন পর গতকাল দুর্ঘটনাস্থলের দু’পাশে জমিতে পড়ে থাকা রেলের বিধ্বস্ত ইঞ্জিন ও বগিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
