গল্প নয় সত্যি

আয়ু বাড়াতে মাছ!

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:১০
মৃত্যু সবার জন্যই অমোঘ সত্য। কিন্তু তাই বলে একটু বেশি বাঁচার স্বপ্ন দেখেন এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এক্ষেত্রে মানুষকে দীর্ঘায়ু করার কোনো উপায় বিজ্ঞানীদের জানা না থাকলেও মানুষের খাদ্যাভ্যাস কিংবা জীবনাচরণের যে দিকগুলো তাকে সুস্থ রাখতে পারে এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক হতে পারে এমন সব বিষয় নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আর এ ধরনেরই এক গবেষণার ফলে এবার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ স্কুলের একদল গবেষক জানিয়েছেন, তিন বেলার খাবারে কিছুটা হলেও মাছ খাবার অভ্যাস যাদের আছে তাদের বেশিদিন বাঁচার সম্ভাবনা মাছ না খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়ে যায়। আর এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। গবেষকরা লক্ষ করেন, চর্বিমুক্ত মাছ মানুষের শরীরে এই অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা পক্ষান্তরে মানুষের মৃত্যু ঝুঁকিকেও কমাতে সাহায্য করে। এই গবেষণার জন্য আমেরিকার উত্তর ক্যারোইলিনা, ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ার ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী দুই হাজার ৭০০ মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেন গবেষকরা। এতে দেখা যায় যাদের রক্তে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি, তারা অন্যদের চেয়ে গড়ে ২ দশমিক ২ বছর বেশি বেঁচেছেন। আর এই ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভালো উত্স হলো মাছের তেল এবং নানাবিধ সামুদ্রিক খাবার। গবেষকরা জানান, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড নামের এই উপাদানটি যে শুধু মানুষের আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখে তাই নয়, বরং রক্তে এই উপদানের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ২৭ ভাগ পর্যন্ত এবং হূদরোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৩০ ভাগ পর্যন্ত কমাতে পারে। এ ছাড়া মাছের তেলে থাকা এই উপাদানটি হূদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককে স্বাভাবিক ও সক্রিয় রাখতে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষের প্রদাহ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।