শেয়ারবাজার কারসাজি তদন্তের দুই বছর পার

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৩
২০০৯-১০ সালে শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া কারসাজিতে তদন্তের দুই বছর পার হয়ে গেলেও দোষীদের চিহ্নিত করে কোনো ধরনের শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কারসাজির ঘটনায় কৃষি ব্যাংকের তত্কালীন চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রায় ৯০ শতাংশ সুপারিশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিএসইসি। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল তদন্ত কমিটি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। দুই বছর পরও তদন্ত প্রতিবেদনের বেশিরভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএসইসির ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মাত্র দুই মাস সময়ের মধ্যে ৩৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও আড়াইশ’র বেশি ব্রোকারেজ হাউজের সব লেনদেন পরীক্ষা করা সম্ভব নয় বিধায় তদন্ত কমিটি কারসাজির বিষয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছিল। অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও সার্বিক কারসাজি নিয়ে তদন্তের বিষয়টি আমলে নেয়নি বিএসইসি। এতে ১৯৯৬-এর কারসাজির ঘটনার মতো এবারও শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনার দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ভবিষ্যতে শেয়ার কারসাজি রোধে ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে যেসব সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি সেগুলো হলো- ২০০৯-১০ সালে সর্বাধিক দরবৃদ্ধি পাওয়া ৮ কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যের ঘটনা উদঘাটনে ৫ সদস্যের চার্টার্ট অ্যাকাউনটেন্টস কমিটি দিয়ে অধিকতর তদন্ত, বিভিন্ন কোম্পানির রাইট শেয়ার ইস্যু অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে পুনঃতদন্ত, ভবিষ্যতে কারসাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘সম্মিলিত পরিদর্শন ও তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন। এছাড়াও বেশ কিছু সুপারিশ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় শাস্তি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে না।