নতুন উদ্যোক্তাদের ৩ বছর পর্যন্ত কর মুক্ত সুবিধা চায় ঢাকা চেম্বার

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৪
নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কার্যক্রম শুরু ও সম্প্রসারণের জন্য অন্তত তিন বত্সর পর্যন্ত কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হোসেনের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব করে ডিসিসিআই। এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছর এই লক্ষ্যমাত্রা হওয়ার কথা। তবে রাজস্বের লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর ফাঁকি বন্ধ করা, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ এবং আদালতের বাইরে বিকল্প উপায়ে বিদ্যমান রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা চালাবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আরো চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। এছাড়া যাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে তাদের কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) বিপরীতে বিদ্যমান ন্যূনতম করের বাইরে নতুন একটি বাধ্যতামূলক কর আরোপের ইঙ্গিত দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। গতকাল বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি সবুর খান সংগঠনের পক্ষে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি বাজেটে করহার বৃদ্ধি না করে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। নতুন উদ্যোক্তাদের তিন বছর পর্যন্ত করের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়। সম্প্রতি ডিসিসিআই ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছর দেশে ২ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। কর সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য সেন্ট্রাল ডাটা বেইজের অধীনে জাতীয় পরিচয় পত্রের ব্যবহারের আওতা বাড়ানো, রাজস্ব আয় ও সঞ্চয় স্বল্প সুদে ব্যাংকে রাখার প্রস্তাব করা হয়। ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। সম্পদের উপর বিদ্যমান সারসার্জ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করহার বিদ্যমান সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর (এআইটি) কর্তন করা, স্থানীয় ঋণপত্রের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেন তিনি।