দাবি না মানলে ৫ মে ঢাকা অবরোধ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪১
 নাস্তিক সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই  ডাক্তার ইমরানসহ নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিন  গণজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করতে হবে  নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ ও মুর্তির মতো ভাস্কর্য বন্ধ করতে হবে  ইসলাম বিরোধী নারী নীতি বন্ধ করতে হবে  নৌকার পাল এখন নাস্তিক ইমরানের হাতে  তথ্যমন্ত্রী আপনি মুখ সামলান  বাংলাদেশে সকল ধর্মের লোকের জায়গা হবে, নাস্তিকদের নয়  বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে  সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে নানা বাধা-বিপত্তি ও পথে পথে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাজধানীতে স্মরণকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিসহ ২৫টি সংগঠনের ডাকা হরতালের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লংমার্চ করে হেফাজতের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ঢাকায় পৌঁছান। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশ থেকে বর্তমান সরকারকে ‘নাস্তিক’ উল্লেখ করে সংগঠনের নেতারা বলেছেন, এ সরকারের আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। লংমার্চে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মহানবী (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। অন্যথায় আগামী ৫ মে রবিবার ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া ১৩ দফা দাবিতে ১১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে মহাসমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। দিনভর অবস্থান শেষে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবু নগরী। সমাবেশে বেশিরভাগ বক্তা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে কায়েম করা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ও সমাবেশ এবং তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে ২৫টি সংগঠনের ডাকা হরতাল ও গণজাগরণ মঞ্চের অবরোধ-সমাবেশকে কেন্দ করে চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। হেফাজতে ইসলামও পুলিশের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী পাঁচটার মধ্যেই সমাবেশ শেষ করে স্থান ত্যাগ করেছে। শাপলা চত্বরে স্থাপিত দৈনিক বাংলা মুখী মঞ্চে দুপুর আড়াইটার দিকে আসেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি, তিনি শুধু মুসলিম উম্মাহ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দোয়া করেছেন বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে। আল্লামা শফীর পক্ষে তার ছেলে আনাস মাদানী একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ও মহাসমাবেশের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করতে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ দুপুরে মঞ্চে আসেন। অবশ্য হেফাজতে ইসলামের নেতারা ছাড়া মহাসমাবেশে অন্য কেউ বক্তব্য রাখেননি। ২৫টি সংগঠনের ডাকা ২৪ ঘণ্টার হরতাল, গণজাগরণ মঞ্চের সড়ক-নৌ-রেলপথ অবরোধ এবং ট্রেন ও বাসসহ দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন বন্ধের মাধ্যমে ঢাকাকে সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় ঢাকার আশপাশের এলাকা ছাড়াও বহু দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজধানীর প্রায় সকল সড়ক ও অলি-গলি দিয়ে হেঁটে তাদেরকে মতিঝিল এলাকায় জড়ো হতে দেখা যায়। সমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী-সমর্থক ঢাকায় পৌঁছেন। মঞ্চে গতকাল সকাল ১০টার কিছু সময় পর থেকেই মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ১১টার মধ্যেই পুরো মতিঝিল এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সাড়ে ১২টার মধ্যে পশ্চিমে জাতীয় প্রেসক্লাব, দক্ষিণে যাত্রাবাড়ী, উত্তরে ফকিরাপুল হয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত মহাসমাবেশ বিস্তৃত হয়ে পড়ে। আশপাশের সড়কগুলোতেও লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দৈনিক বাংলার মোড়, ফকিরাপুল ও টিকাটুলি মোড় পর্যন্ত মাইকের আওয়াজ শোনা গেলেও এর দূরবর্তী স্থানে অবস্থানকারীরা নেতাদের বক্তব্য শুনতে পারেননি। লংমার্চের তিনদিন আগেই রাজধানীতে আসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। মহাসমাবেশ থেকে গতরাত ১০ মধ্যে আটককৃত হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চও ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানান হেফাজতে ইসলামের নেতারা। এছাড়া ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা। হেফাজতে ইসলামের আমীর ও মহাসমাবেশের প্রধান অতিথি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে তার ছেলে আনাস মাদানীর পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমাদের দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়। কাউকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বা বসাতেও আমরা এসব দাবি করিনি। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে হলে এসব দাবি মেনেই থাকতে হবে। সমাবেশে বলা হয়, এ আন্দোলন ভাষা রক্ষার আন্দোলন। এ আন্দোলন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে এক বক্তা বলেন, ‘আপনি আপনার বাবা, বঙ্গবন্ধুর বই পড়ে দেখুন। ’৭১ এ তিনি যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, এখনও সেই অধিকার রক্ষার জন্যই আমরা আন্দোলন করছি।’ এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতা জুবায়ের বাবু নগরী বলেন, এই সরকার শুরু থেকেই মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। লংমার্চে বাধা দিয়ে ও নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে এ সরকার প্রমাণ করেছে তারা ইসলামের পক্ষের সরকার নয়, এ সরকার নাস্তিকদের সরকার। এ সরকার ইসলামের দুষমন। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এই ‘নাস্তিক’ সরকার আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকতে পারে না। আওয়ামী লীগ নিজেদের মুসলমান দাবি করলে নাস্তিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দ্বিমুখী আচরণের মাধ্যমে সরকার নিজেদের মোনাফেক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন করছে। দলীয় কিংবা সাংগঠনিকভাবে এর সঙ্গে অন্য কোনো দলের সম্পৃক্ততা নেই। কারও সঙ্গে সম্পর্কও যেমন নেই, তেমনি সংঘর্ষও নেই। এখানে যারা এসেছেন তারা কেউ দল হিসেবে নয়, এসেছেন আল্লাহ ও নবীর (সা.) প্রেমিক হিসেবে। ১৩ দফা দাবির পাশাপাশি মহাসমাবেশের ঘোষণা হিসাবে উল্লেখ করে বলা হয়- ডা. ইমরান এইচ সরকার এবং মহানবী (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারী ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে, নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ ও মূর্তির মত ভাস্কর্য স্থাপন বন্ধ করতে হবে, পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে, ইসলামের অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সকল মসজিদে মুসলমানদের অবাধে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে, ইসলাম বিদ্বেষী নারীনীতি বন্ধ করতে হবে এবং অশ্লীলতা রোধে অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি আদায়ের পর কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায় করা হবে বলেও জানানো হয়। সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ যে কোনো ধর্মের লোক এদেশে থাকতে পারবে। কিন্তু এদেশে কোনো নাস্তিকের ঠাঁই হবে না। যারা নিজ ধর্ম ত্যাগ করে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। এ মহাসমাবেশের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে-এদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হবেই। নাস্তিকদের পক্ষে অবস্থানকারী সরকারের এদেশ শাসনের কোনো অধিকার নেই। এ সরকার দেশকে নাস্তিকদের রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, এজন্য শাহবাগের নাস্তিকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। নৌকার পাল এখন ‘নাস্তিক’ ইমরানের হাতে। আগামী নির্বাচনে জনগণ এ সরকারকে জবাব দেবে। শাহবাগের ‘নাস্তিকরা’ বাংলাদেশের, বিশেষ করে ঢাকার মাটিকে অপবিত্র করে ফেলেছে। এ মাটিকে পবিত্র করতে হবে। যারা হরতাল ডেকে এ সমাবেশে বাধা দিয়েছে তারাই প্রকৃত জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী। শাহবাগে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দেয়া হয়, কিন্তু ‘জয় বাংলাদেশ’ ও বঙ্গবন্ধুর নাম বলা হয় না। এর অর্থ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বেও বিশ্বাস করে না। কাজেই তারা শুধু নবীর দুষমন নয়, তারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বেরও শত্রু। বর্তমান সরকার ও ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের আল্লামা শফীর কাছে এসে তওবা করে মুসলমান হওয়ার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নাস্তিকদের পক্ষ নিয়ে যারা সংসদে বক্তব্য রেখেছেন তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডা. ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। শাহরিয়ার কবিরের আস্ফাালন বন্ধ করুন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে বলবো-আপনি মুখ সামলান। সৈয়দ মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে এ সরকার ভুল করেছে, নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে। যাদের বুদ্ধিতে সরকার এ কাজ করেছে তারা সরকারের কোনো উপকার করতে পারবে না। হেফাজতের আরেক নেতা নূরুল ইসলাম অলিপুরি বলেন, নাস্তিকদের ফাঁসির কাষ্ঠে না ঝুলানো পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে সেলিম উল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে শ্লোগান দেন। এর কিছুক্ষণ পর সমাবেশ থেকে বলা হয়, সবাইকে সম্মান করতে হবে। শেখ হাসিনা এখনও আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে যে শ্লোগান দেয়া হয়েছে, তা স্বাধীনতাবিরোধী শ্লোগান। আমরা এ শ্লোগান প্রত্যাহার করছি। এর আগে নাস্তিকদের উদ্দেশে উপস্থিত লোকজন জুতা প্রদর্শন করেন। বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ আগামী ১১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। এরমধ্যে ১১ এপ্রিল সিলেট, ১২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহ, ১৮ এপ্রিল বরিশাল, ১৯ এপ্রিল ফরিদপুর, ২০ এপ্রিল খুলনা, ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম, ২৯ এপ্রিল রাজশাহী ও ৩০ এপ্রিল বগুড়ায় শানে রেসালাত মহাসমাবেশ করা হবে। কমিশনার ও মিডিয়ার ওপর আক্রমণ সমাবেশ চলাকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বোতল ছুঁড়ে মারা হয় মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজির আহমেদের দিকে। পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে। একুশে টিভির স্টাফ রিপোর্টার নাদিয়া শারমিন মারধরের শিকার হন। বিকালে পল্টন মোড়ে তার উপর হেফাজতের কর্মীরা হামলা চালান। শাহবাগের আদলে, তবে ভিন্ন শ্লোগান সমাবেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজনকে জাতীয় পতাকা হাতে ঘুরতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে থাকা প্লাকার্ডে লেখা ছিল ‘বাঁচাও কোরআন, বাঁচাও দেশ, আহমদ শফীর বাংলাদেশ’, ‘সফল হোক লংমার্চ-আল্লামা শাহ আহমদ শফী জিন্দাবাদ’, ‘আই লাভ মোহাম্মদ’ ‘মহানবীর (সা.) অবমাননা, সহ্য করা হবে না’, ‘নাস্তিকদের ফাঁসি চাই’, ‘চলো চলো ঢাকা চলো, লংমার্চ সফল কর’, ‘কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে’, ‘পীর-আউলিয়ার বাংলাদেশ, নাস্তিকদের সময় শেষ’, ‘সেভ ইসলাম, সেভ মুসলিম, সেভ কোরআন’, ‘নাস্তিকদের বলতে চাই, তোদের এবার রক্ষা নেই’, ‘নাস্তিকদের আস্তানা, বাংলাদেশে রাখব না’, ইত্যাদি। এসব শ্লোগান ছাড়াও আরবীতে লেখা কলেমা তায়ৈবা সম্বলিত ফিতা বাঁধা ছিল অনেকের কপালে। এছাড়া ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’ শ্লোগানে মুখর ছিল সমাবেশ। নানা খাবারের আয়োজন সমাবেশে আগতদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ রিক্সা ভ্যান ও পিকআপ ভ্যানে করে বিনামূল্যে নানা ধরনের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রচুর গরমের কারণে শসা, তরমুজ, ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয়, জুস ও আইসক্রিম সরবরাহ করা হয়। এছাড়া অন্যান্য খাবারের মধ্যে ছিল- চিড়া, গুড়, খেজুর, গাজর, পাউরুটি, কমলা, বিস্কুট ইত্যাদি।