জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের রাজনীতিবিদদের অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। যাদের সাথে মতের মিল হয় না তাদের মূলোত্পাটন করার রাজনীতি হচ্ছে সেই পরাধীন আমলের রাজনৈতিক মানসিকতা। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়। তিনি গতকাল শনিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী থানার পাঙ্গাশিয়া বাজারে ও রাতে কাউখালী সদরে পৃথক দুটি সমাবেশে আরো বলেন, মূলোত্পাটন শব্দটি বামপন্থি বা উগ্রপন্থিদের ভাষা। যারা আমাদের মত উদারপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তারা অহরহ এই বাক্যটি ব্যবহার করেন। যার কারণে সমাজে ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। সমাজে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে সকল দলের রাজনীতি করার অধিকার আছে। ছয় বছর আগে আমাদের দেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তখন দুই বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এ সময়কালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়ে গেছেন। তারা হয়তো সাময়িকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। এখন দেশে যা চলছে তাতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হলে হয়তো তখনকার মত অধিকাংশ মানুষ খুশি হবেন, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এই আশায়। দেশে সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠিতও হবে। কিন্তু এ ব্যবস্থাতো সাময়িক। তারপর কি হবে?
আনোয়ার হোসেন বলেন, আপনারা জানেন বর্তমানে আমাদের দেশে কি ধরনের ঘটনা ঘটছে। অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে যা আমাদের কারও কাম্য নয়। দেশে যদি আমরা স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে না পারি তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে। দেশ আজ পুরোপুরি দুই ভাগে বিভক্ত। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদি এই অবস্থা বিরাজ করে, ঢাকার পরিস্থিতি যদি এরকম উদ্বেগজনক অবস্থায় থাকে তবে দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনিবার্য হয়ে উঠবে। মানুষ যদি সংঘবদ্ধ থাকে সংঘাত-বিবাদ না করে বা মারমুখী রাজনীতি পরিহার করে তবে গণতান্ত্রিক রাজনীতি বা ভোটের রাজনীতি অব্যাহত থাকবে। এখন যদি আমরা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না করি কিংবা স্বাধীনতার আগের রাজনীতির অভ্যাস না বদলাই তাহলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে না। পরাধীনতার আমলে মানুষের অনুন্নত জীবন আর স্বাধীনতা পরবর্তী উন্নত জীবনের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যকে উপলব্ধি করতে হবে। এ দুই আমলের রাজনীতির পার্থক্য নির্ণয়ে মানুষ ভুল করে বসবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ধর্মকে ইস্যু করে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা দেশে ঘটেছে যা উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আমরা আমাদের ধর্ম নিয়ে থাকব। অন্যরা তাদের ধর্ম নিয়ে থাকবেন। কিন্তু কেউ ধর্ম নিয়ে একে অপরের উপর নির্যাতন করবেন তা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। তিনি বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হব না যদি আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে দেশে নির্বাচন না হয়। হয়তোবা কাঙ্ক্ষিত সময় নির্বাচন অনুষ্ঠান দুরূহ বা অসম্ভব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই দেশে স্থিতিশীলতা অক্ষণ্ন রাখা গেলে নির্বাচন অনুষ্ঠান সময়মত সম্ভবপর হবে। আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, দেশে সরকার বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু থাকলে মানুষ রাজনীতিবিদদের সম্মান করে, রাজনীতিবিদরা না থাকলে মানুষের অধিকার আদায় হয় না। তাই রাজনীতিবিদদের আচরণ এমন হতে হবে মানুষ যাতে কোন কারণে তাদের গালি না দেয়। রাজনীতিবিদদের আদর্শ হওয়া উচিত মানুষের সেবা। এই সেবাধর্মী কাজের মধ্যদিয়ে তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভোটের পরিবেশ বজায় রাখা।
শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (জেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জেপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার। বক্তব্য রাখেন জেপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, কাউখালী উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদার, ইউনিয়ন জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, আব্দুল লতিফ খসরু, মশিউর রহমান, খান মো. বাচ্চু, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভিটাবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাশিউর রহমান মৃধা, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির পরিচালক শাহ আলম নসু, সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী আকন, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিল্টন, শিল্প সম্পাদক তালুকদার মতিউর রহমান, ছাত্র সমাজের উপজেলা সভাপতি মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, কৃষক পার্টির নেতা আবুল বাশার প্রমুখ। রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী উপজেলা সদরে বালুর মাঠে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান। এখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, রাজু আহমেদ, নেপাল চন্দ্র দে, শাহ আলম তালুকদার, জাকির হোসেন নসু, হারুন অর রশীদ, নাহিদ বাচ্চু প্রমুখ।
ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল শনিবার পূর্বাহ্নে স্থানীয় দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয়ে এক বৈঠকে বলেন, রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। গত ৬৫ বছর ধরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন। এই অবস্থা থেকে রাজনীতিবিদদের বেরিয়ে আসতে হবে। দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংস্থার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির সভানেত্রীদের উদ্দেশে একথা বলেন। বৈঠকে ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মনিরুল হক জোমাদ্দার, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, ইউসুফ আলী আকন, দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা এম এ রব্বানী ফিরোজ, কর্মকর্তা কাজী আতাহার আলী, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সম্পাদক শহীদুজ্জামান রাজু, হুমায়ুন কবির বাদল সিকদার প্রমুখ। এছাড়া ছাত্র সমাজের সভাপতি মোস্তফা সিকদার, সহ-সভাপতি রাহাত জোমাদ্দার, সম্পাদক মামুনুর রশীদ, মিঠু সিকদার, খলিলুর রহমান প্রমুখ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সফরসঙ্গী ছিলেন।
