লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘটে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকায় ১৬টি ঘাটে পণ্য খালাস স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘাটগুলোতে পণ্য খালাসের জন্য প্রায় ৭০টি লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলীতে ভাসছে। আরো প্রায় ১৫/১৬টি জাহাজ আমদানি করা পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করছে। জাহাজ মালিকরা জানান, ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় প্রতিদিন একটি জাহাজের পেছনে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক মাস যাবত্ আমদানি করা পণ্য নিয়ে এমনিতেই বিপুল টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে শ্রমিকদের ধর্মঘটের ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মঘটী শ্রমিক-কর্মচারীরা গতকাল মাঝিরঘাট এলাকায় তাদের ১৭ দফা দাবির পক্ষে মিছিল-সমাবেশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঘোষণা সত্ত্বেও শ্রমিকদের ২০ শতাংশ ভাতা জাহাজ মালিকরা প্রদান করছে না। নৌপথে চুরি, ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পণ্য পরিবহন করছে। আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাবি জানিয়েছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস করে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো এবং মাঝিরঘাট এলাকায় বিভিন্ন ঘাটে খালাস করে গুদামে মজুদ করার কাজে প্রায় ২০ হাজার লাইটারেজ শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের ডেপুটি সেক্রেটারি আতাউল কবির রুদ্র ইত্তেফাককে বলেন, ‘পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় জাহাজ মালিকরা এমনিতে লোকসানে রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে প্রতি জাহাজে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। একটি জাহাজ তিন মাসে ২টির বেশি ভাড়া পাই না। লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিডিউল পেতে সময় লাগে।’
মাঝিরঘাট এলাকায় ১৬টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে আমদানি করা পণ্য খালাস করা হয়। পণ্য খালাসের কাজে জড়িত রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ঘাট শ্রমিক। ধর্মঘটের ফলে এসব ঘাট শ্রমিক এখন অলস সময় কাটাচ্ছে। তাদের নির্দিষ্ট কোন মজুরি নেই। পণ্য খালাসের জন্য বস্তা প্রতি মজুরি পেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে ঘাট ও গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক ইত্তেফাককে বলেন, ‘পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় ঘাট শ্রমিকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পণ্য খালাস হলে ঘাট শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়ে থাকে।’
লাইটারেজ শ্রমিকরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নৌপথে পণ্য পরিবহনের সময় প্রতিদিন একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের চর বিরবির, বঙ্গের চর, মুন্সিগঞ্জের ষাটনল, মেঘনা ব্রীজ এলাকা, মেঘনা মোহনায় বাতিখাল ও গজারিয়া এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাত প্রতিরোধে কোস্টগার্ড ও পুলিশ কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
