আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের চাপে পড়ে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এ হরতালের কোন যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে তাদের নেতাকমঅীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় কিছু লোক শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে হামলার চেষ্টা করেছে। এরা হেফাজতের কর্মী নয়, বিএনপি-জামায়াতের লোক। গতকাল শনিবার বিকালে কাওরান বাজারস্থ টিসিবি ভবনে মাহবুব-উল-আলম হানিফ তার নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, হেফাজতের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তখন মহাসমাবেশ থেকে কিছু লোক হরতাল হরতাল বলতে থাকে। এরা বিএনপি ও জামায়াতের বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সমাবেশে গিয়ে সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করেছে। হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে তাদের কথা রেখেছে বলে জানান তিনি। হানিফ বলেন, হেফাজতের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের দুইজন মারা গেছে। মহাখালীতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মঞ্চেও তারা হামলা করেছে। কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বিবাদে না জড়িয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সরকারের রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশে হানিফ বলেন, মহানবীকে নিয়ে কেউ কটূক্তি করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো ন্যায়সঙ্গত। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী আল্লাহ ও রসুলকে নিয়ে অনেক কটূক্তি করেছে। জাতি প্রত্যাশা করেছিল মহানবীকে (সা.) কটূক্তিকারী মওদুদীর অনুসারী জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি করবে হেফাজত। কিন্তু মহাসমাবেশ থেকে সেই ঘোষণা না আসায় হেফাজতের কর্মসূচি নবীর প্রতি শ্রদ্ধা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, বিরোধীদল ক্ষমতালিপ্সু হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উস্কে দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত হেফাজতের কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এজন্য অনেক টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও ইউটিউবের ভিডিওতে দেখা গেছে। মূলত অবৈধভাবে ক্ষমতায় যেতে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি এবার হেফাজতের ওপর ভর করেছে।
ব্লগারদের আত্মপক্ষ সুযোগ না দেয়ার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ব্লগাররা হেফাজতের সঙ্গে বসতে চেয়েছিল। কিন্তু হেফাজত বসতে চায়নি। অথচ মহানবী (সা.) বিধর্মীদের সাথেও বিভিন্ন বিষয়ে বসেছিলেন। অচিরেই সকল সংকট কাটিয়ে উঠে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে উল্লেখ করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সরকারকে নাস্তিক বলাটা অযৌক্তিক। এভাবে কাউকে নাস্তিক বলা ঠিক নয়। সরকার হেফাজতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে সরকার ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আস্থাশীল। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য দুই একটি পত্রিকা ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে সরকার। লংমার্চকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়ে হানিফ বলেন, গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর আক্রমণ করার মধ্যে কোন বীরত্ব নেই।
