ওদের জানা নেই কবে বর্ষবরণ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৭
বাবুই পাখির বাসাটি দেখলে মনে হবে যে বাবুই পাখিই এইমাত্র বাসাটি বেঁধে শেষ করেছে। এছাড়া অন্যান্য পাখির বাসা, নানা ঢং এর মুখোশ, টুপি, নানা খেলনা, ঘর সাজানোর নানা জিনিস, এছাড়া ঢালা, কুলা, ঝুড়ি, কলসি, বাঁশি ইত্যাদি নানা শিল্পকর্মে আয়োজন প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে যশোরের সীতারামপুর, কচুয়াগ্রাম ও মনিপুর গ্রামে মুচি/ঋষি সম্প্রদায়ের নারীদের। বৈশাখের আয়োজনের জন্য ছয় মাস থেকে ঋষি সম্প্রদায়ে নারীদের মহা ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে। বলা যায় খাওয়া, ঘুম সংসারের অন্য কাজ তাদের ঠিকভাবে হয় না। বাঁশ, পাট ও নারকেলে রশি বা কায়া দিয়ে তারা দেখতে আকর্ষণীয় নানা কুটির শিল্প তৈরি করছে। এই নারীদের কাজ দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। কুটির শিল্পের তাদের এই সব পণ্য বলা যায় সারাদেশে যাচ্ছে কিন্তু তারা নিজে কোথায় কোন পণ্য নিয়ে যায় না। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যবসায়ীরা এইসব পণ্য গ্রামে গ্রামে এসে বৈশাখের অনেক আগে অর্ডার দিয়ে যায় এবং পহেলা বৈশাখের কিছু সময় আগে এসে নিয়ে যায়। এছাড়া এইসব গ্রামের পুরুষরা হাটে বিক্রি করে বা অন্যান্য গ্রামে ফেরি করে। তবে দেখা গেছে যে ঋষি সম্প্রদায়ে নারীদের হাতে এসব নিপুণ কারুকার্য আকর্ষণী শিল্পকর্মগুলোর তারা যথার্থ মূল্য পাচ্ছে না। মুচি সম্প্রদায়ে নারীদের পহেলা বৈশাখের আয়োজন নেই বললেই চলে। কারণ তারা দরিদ্র ও নিচু তাই পহেলা বৈশাখের ভাল খাবার, নতুন কাপড়, ঘর সাজানো, নিজে সাজা এইগুলো তাদের জীবন থেকে অনেক দূরে। ঋষি সম্প্রদায়ের এখানের নারীরা শুধু জানে পহেলা বৈশাখের আগে তাদের অনেক বেশি মালের অর্ডার হয় এবং বিক্রি হয় তবে লাভ হয় পরিশ্রমের তুলনায় সামান্য। পহেলা বৈশাখের নারীদের অনেক কাজ করতে হয় এটা একটু কষ্ট তবে কষ্টের পর অনেক বিক্রির জন্য ঘরে একটু টাকা আসে অভাব দূর হয় এটা ভেবে তাদের আনন্দ। অনেক মাল বিক্রির জন্য তারা জানে যে পহেলা বৈশাখ আসছে। এই পহেলা বৈশাখের আনন্দ আচার, অনুষ্ঠান কিছুই জানে না সীতারামপুর, মনিরামপুর ও কচুয়া গ্রামের নারী ও শিশুরা। তবে এবার দেশের ভয়াবহ অবস্থার জন্য অনেক জিনিস হাটে, বাজারে বা রাস্তায় তারা বিক্রি করতে পারছে না। এর ফলে অন্য সময়ের চেয়ে এবার তাদের বিক্রি বা লাভ হচ্ছে খুব কম। এসব নিয়ে পহেলা বৈশাখের আয়োজনের বিক্রির জন্য তাদের মনে অনেক কষ্ট। এই সম্প্রদায়ের অনেক নারীরা জানে না পহেলা বৈশাখের দিনটি কবে। শুধু যখন ছয় মাস আগে থেকে নানা জিনিসের অর্ডার পান তখনই জানে পহেলা বৈশাখ আসছে। সেটা কোন দিন সময় সেই সম্পর্কে অনেকেই জানে না।