অলঙ্কারের গীতিকার

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৭
তেহমিনা এনায়েত। গত পঁচিশ বছর যাবত্ কাজ করছেন অলঙ্কার গড়ন ও ডিজাইন নিয়ে। পার্লস প্যারাডাইস আজ একটি সফল ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মূলতঃ পারিবারিক ব্যবসা থেকেই তেহমিনা এনায়েত অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই ১৯৫৯ সাল থেকেই বায়তুল মোকাররমে তাদের পারিবারিক গহনার দোকান ছিল। ননদ দিলনাশিন খাঁন ছিলেন এর দায়িত্বে। তার কাছে অনেক কিছু শিখেছেন তেহমিনা। পরে জা শিরিন খাঁনও ব্যবসা দেখভাল করেছেন। কিন্তু জুয়েলারী ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞানার্জনের জন্য তেহমিনা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। ডিজাইনে নিয়ে আসেন নতুনত্ব এবং অভিনবত্ব। ১৯৮৫ সালে ননদ দিলনাশিন খাঁন হঠাত্ করেই মারা যান। এরপরই পার্ল প্যারাডাইসের হাল ধরেন তিনি। সফল ও সম্ভাবনাময় এই ইন্ডাষ্ট্রিটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেকটাই অবহেলিত। সেখানে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের বদৌলতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তেহমিনা সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্বস্ততায় অর্জনই ছিল তেহমিনার ব্যবসায়িক সফলতার অন্যতম কারণ। তেহমিনা জানান, পার্ল প্যারাডাইসের আছে নিজস্ব ক্রেতা। আস্থা ও বিশ্বসত্তার গুণেই পার্ল প্যারাডাইস হয়েছে জুয়েলারী ভক্তদের প্রিয় ব্যান্ড। কারিগরদের সাথে তেহমিনার সম্পর্ক মাতৃসুলভ। তিনি মিষ্টি পানির গোলাপী মুক্তো ব্যবহার করেন। পিঙ্কপার্ল, জড়োয়া, রত্ন—খচিত নানা গহনা ডিজাইনও তৈরি করে থাকেন তিনি। নতুনত্বের কারণে তার ডিজাইন পেয়েছে জনপ্রিয়তা। আজকাল বাজারময় ছেয়ে যাচ্ছে নকল রত্নে, নকল চাইনিজ মেড, জুয়েলারীতে। অনেকেই তার কাছে আসেন এবং তেহমিনা চিনে ফেলেন আসল-নকলের তফাত্। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্নে এই নকল গহনার অনুপ্রবেশ খাঁটি গহনা শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ক্রেতার সানন্দ খুশি ব্যবসার ক্ষেত্রে সাফল্য ও আনন্দ বয়ে আনে। সততার উপরই এই শিল্পের উত্তরণ যা তার পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। বাংলাদেশে আজ জুয়েলারী ডিজাইনার হিসেবে তিনি মনে করেন, বিশ্বায়নের ফলে নানারকম ডিজাইনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে জমকালো জড়োয়ার ঝলমলে নকশার ঐতিহ্য এখনো চলমান। এটি হতে পারে রপ্তানিযোগ্য ব্যবসা। তেহমিনা সবচেয়ে আনন্দ বোধ করেন তখন, যখন বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে তার ডিজাইন পার্ল প্যারাডাইসের গহনা সজ্জিত কাউকে দেখেন। একজন সফল অলঙ্কার শিল্পী হিসেবে নব নব রূপে সাজিয়ে তোলার আনন্দটাই সৃজনসত্তায় সবচেয়ে বেশি কাজ করে। পঁচিশ বছরের সফল পথ চলায় তেহমিনা এনায়েতের অনুপ্রেরণা হয়েছেন স্বামী এনায়েতুল্লাহ খাঁন ও তার সন্তানেরা। একজন গৃহবধূ থেকে আজ তিনি সফল বিশেষজ্ঞ অলঙ্কার নির্মাতা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, প্রতিটি নারী সফল বিশেষজ্ঞ অলঙ্কার নির্মাতা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, প্রতিটি নারী সফল হোক। হয়ে উঠুক ব্যক্তিত্বের আলোকবর্তিকা। অলঙ্কারের গীতিকাব্য হয়ে উঠুক গর্বের প্রতীক হয়ে।