সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিল্পের প্রতি টান থেকেই জন্ম নেয় সংগঠন গ্যালারিয়া আর্ট। প্রথমাবস্থায় কেবল ক’জন বন্ধুর আড্ডা আর চলচ্চিত্র ও শিল্প বিষয়ক পাঠচক্র ও আলোচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো গ্যালারিয়ার কার্যক্রম। পরে সদস্য ও সংগঠকদের ইচ্ছায় এর সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। কেবল শিল্প বিষয়ক কার্যক্রমই নয় বরং শিল্প ও সংস্কৃতির ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে সমাজ ও মানুষের মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে হাতে নেয়া হয় বিভিন্ন কার্যক্রম। শিশুদের মনোবিকাশের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে গ্যালারিয়া সমপন্ন করেছে বেশ কিছু শিশু চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। গত শীতে বিভিন্ন পাড়া ও বাসায় গিয়ে গ্যালারিয়ার সদস্যরা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে উত্তরাঞ্চলের শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করে। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও এ বিষয়ে মানুষকে আগ্রহী করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে গ্যালারিয়া সমপন্ন করেছে বেশ কিছু চলচ্চিত্র বিষয়ক কার্যক্রম। যাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিলো আশাপ্রদ। আমাদের পথ শিল্প বিশেষ করে মৃত্, বাঁশ, কাঠ, পাট ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হস্তশিল্পগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে মানুষকে আগ্রহী করার লক্ষ্যে গ্যালারিয়ার রয়েছে একটি পথ শিল্প গবেষণা প্রকল্প। গ্যালারিয়ার বর্তমান কার্যক্রম ও এর ভবিষ্যত্ ভাবনা নিয়ে জানায় গ্যালারিয়ার তিন তরুণী সংগঠক।
সৈয়দা শেহরীন
পরিচালক, প্রকল্প
আমরা যে কোন কাজ হাতে নিলে প্রথমে যে কাজটি করি তা হলো প্রকল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও বাধাগুলো আগে চিহ্নিত করি। কারণ আমরা জানি আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আর এখন পর্যন্ত কোন কাজের জন্যই আমরা কোন সপন্সর বা বিজ্ঞাপনের জন্য কারো দ্বারস্থ হইনি। আমার মনে হয়, বিশ্বাস আর ইচ্ছা থাকলে এবং পরিশ্রম করলে কোন কাজই থেমে থাকে না। শিশুদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীগুলো ছিল খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। কিন্তু আমরা সাড়া পেয়েছি আশাতীত। আমাদের সাধ্যের ভেতর দিয়ে আমাদের চাওয়াগুলো অর্জন করতে পেরেছি। ইচ্ছে আছে আরো ভালো করে কাজ করে যাওয়ার। মানুষের জন্য কাজ করার।
----
সুমাইয়া ফাতেমিন ইতু
পরিচালক, প্রকাশনা
আমাদের দেশে এখন শিল্প ও চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রকাশনার হার অনেক বেড়েছে। মানুষের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র। এ বিষয়ে অধ্যয়ন যে সকল শ্রেণির পাঠকেরই হতে পারে এটা এখন অনেকেই মেনে নিয়েছেন। আমরা গ্যালারিয়া থেকে এমন কিছু চলচ্চিত্র ও শিল্প বিষয়ক গবেষণা প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করছি। এ বিষয়ে সংগঠকদের মাঝে আলোচনাও হচ্ছে। আমরা চাই সাধারণ মানুষ বিশেষ করে আমাদের অবহেলিত নারীদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সচেতন করতে। কারণ, এটি খুবই শক্তিশালী মাধ্যম। চলচিত্র মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে। সব মানুষ কমবেশি সিনেমা দেখে এবং এর মাধ্যমে সহজেই সমাজের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়।
----
তানজিয়া সাবরিন
পরিচালক, পথ শিল্প
প্রথম অবস্থায় পথ শিল্প নিয়ে আমাদের কোন কার্যক্রম ছিল না। কিন্তু পরে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে সংগঠকরা একত্রিত হই। বর্তমানে আমাদের গ্যালারিয়া কালেকশন্স নামে একটি ব্র্যান্ড রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাতে তৈরি বিভিন্ন নান্দনিক পণ্য এনে রাজধানী ও কয়েকটি শহরের শপিং মলে আমরা পণ্যগুলো সরবরাহ করছি। মোটামুটি সাড়াও পাচ্ছি। আমরা চাই এই শিল্পগুলোর ব্যাপক বিকাশ এবং সাধারণ মানুষকে এসব পণ্য ব্যবহারে উত্সাহী করতে।
