চৌদ্দগ্রামে সদ্য কারামুক্ত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫১
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার ১০ ঘণ্টা ব্যবধানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আলকাছ মিয়া নামে কুয়েত প্রবাসী এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার হাজারীপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ ড্রাইভারের ছেলে। সম্পত্তি ও বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা আত্মসাতের লক্ষ্যে ভাই ও বোনেরা নির্যাতনে তাকে হত্যা করে তড়িঘড়ি লাশ দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, আলকাছ মিয়া (৪০) বিভিন্ন মেয়াদে গত ১৮ বছর যাবত্ কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। বিগত ৫ মাস পূর্বে দেশে ফেরার পর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসেব, স্ত্রী-সন্তানদের নির্যাতন ও নিজ বাড়িতে থাকতে না দেয়ার বিষয় নিয়ে মা এবং ভাই-বোনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ছেলের পাঠানো টাকায় মা মনোয়ারা বেগম নিজ নামে ২৪ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তি আলকাছের মতামত না নিয়ে ছোট মেয়ের স্বামী ফয়েজ উদ্দিনকে রেজিস্ট্রি করে দেন। এক পর্যায়ে মা মনোয়ারা, তালাকপ্রাপ্তা বোন নিলুফা, হাছিনা ও শাবানা, ভাই লাভলু, মোহাম্মদ আলী ও বাবলু আলকাছের ঘর-দরজা ভেঙ্গে তাকে ও তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করে। এছাড়া মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে আলকাছের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা রজু করে। ওই মামলায় গত ২১ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আলকাছকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। চলতি মাসের ১৮ এপ্রিল তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। ছুটির মেয়াদ ঘনিয়ে আসায় আলকাছের স্ত্রী পারুল আক্তার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার সে জামিনে বের হয়ে আসে। এরপর সমস্যা সমাধানে শুক্রবার সালিশের দিন ধার্য করা হয়। আলকাছ এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশের দাওয়াত দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক ১টায় বাড়ির সামনের রাস্তায় আলকাছের ভাই-বোনেরা তাকে মারধর করতে থাকে। তার চিত্কার শুনে স্ত্রী পারুল আক্তারসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। রাস্তায় পড়ে থাকা আহত আলকাছকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তবে মা, ভাই-বোনসহ এলাকার একটি মহল আলকাছ হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার করে পরদিন শুক্রবার সকালে তড়িঘড়ি করে তার লাশ দাফন করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।