সংঘাতের রাজনীতি গণতন্ত্রের পথে অন্তরায়

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৭
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সংঘর্ষ-সংঘাতের রাজনীতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে আজ অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিন্ন দলের সাথে বা নিজেদের দলের মধ্যেও মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু তা সংঘাতে রূপ নেয়া কাম্য নয়। জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি গতকাল রবিবার ও গত শনিবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আরো বলেন, ৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে সংঘাতের রাজনীতি চলছে। যা সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের জন্য কাম্য ছিল না। গত ৪০ বছরে দেশে অনেক উন্নয়ন ঘটেছে বলে রাজনৈতিক দলগুলো বা রাজনীতিবিদরা আত্মতৃপ্তির সাথে বলে বেড়ান। এ দীর্ঘ সময় দেশে অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। কিন্তু সময়ের নিরীখে তা যথেষ্ট বলে মনে করার কিছু নেই। প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণ-যুবক লেখাপড়া শেষ করে কর্মসংস্থানের আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু দেশের ৩০/৩৫ শতাংশ যুবকের মধ্যে অধিকাংশই চাকরিহীন বেকার। বিদেশে তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ নেই, সেখানে উন্নয়নের দাবি করা অলীক। পক্ষান্তরে দেখা যায় এ যুবকরা হতাশা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার গলিতে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে নিপতিত তার প্রধানমত কারণ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির বেকারত্ব। এ অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থার কারণে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে না। তাই কিছু দিন পরপর মানুষের মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা দানা বাঁধে। রাজনীতিবিদদের উপর জনগণের আস্থাহীনতা দেখা দেয়। তখন ভোটের অধিকার, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ধারা ব্যহত হয়, সর্বোপরি গণতন্ত্রের পথে সূচিত অগ্রযাত্রা থেমে যায়। তিন বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকলে মানুষ রাষ্ট্র বা সরকারের কাছ থেকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। তখন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের এক ধরনের অন্যায় চাহিদা সৃষ্টি হয়। যা জনগণের সাথে রাজনীতিবিদদের দূরত্ব সৃষ্টি করে। আর এ সুযোগে হিংসা-বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়। সমাজে মারামারি, হানাহানি দেখা দেয়। যার পাশাপাশি জন্ম নেয় অনিয়ম-দুর্নীতি-আত্মসাতের প্রবণতা। তখন অনিবার্যভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক ধরনের অনির্বাচিত শক্তির আবির্ভাব ঘটে। যারা জনগণের মাঝে সাময়িকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখায় এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘকালীন সংকটের মধ্যে নিক্ষেপ করে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক বিষয়সমূহ নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, এ দীর্ঘ সময়ে সরকার ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অবস্থার মাঝে যখনই স্থিতিশীলতা বিরাজ করেছে তখনই দেশে সাধারণ মানুষ বিদ্যুত্, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে ন্যূনতম অধিকার আদায়ে সক্ষম হয়েছে। যদিও এই প্রাপ্তি একটি স্বাধীন দেশ উপযোগী নয়। আমাদের দেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ উন্নত জীবন-যাপনের আশায়। কিন্তু গত ৬৫ বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে রাজনীতিবিদরা তাদের আদর্শিক চরিত্র বজায় রাখতে সক্ষম হননি। আর মানুষ রাজনীতিবিদদের এভাবে মূল্যায়ন করেন যে, তারা জনগণের অধিকার হরণকারী। রাজনীতিবিদ শব্দটি মানুষের কাছে গালির সমতুল্য। আর এ অবস্থার জন্য দায়ী তারাই যারা নিজেদের স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতিবিদ করে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তাদের চরিত্র, আচরণ ও মনোভাব পরাধীন দেশের আদর্শহীন রাজনীতিবিদদের মতই রয়েগেছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশে নির্বাচন আসন্ন। কিন্তু সময়মত বা কবে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। এই মুহূর্তে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদ্যমান তাতে মানুষ হতাশ। দেশের জনগণ এই অনিশ্চিত অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি। যেহেতু মানুষের সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য, তাই জয় আমাদের হবেই। আর এই জয় লাভের জন্য যুব সংহতির নেতা-কর্মীদের কাজ করে যেতে হবে। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় যুব সংহতির ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি কার্যালয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি খোকন সিকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভান্ডারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, সমাজ সেবক ইউসুফ আলী আকন, জেপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া কলেজের সাবেক ভিপি কামাল জোমাদ্দার, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহীদুজ্জামান রাজু মল্লিক, যুব সংহতির নেতা হুমায়ুন কবির বাদল সিকদার, জামাল উদ্দিন লিটন, মিটুল মল্লিক, পরীক্ষিত মিশ্র, মনির হোসেন, শাহ আলম পান্নু, মো. জামাল হাওলাদার, ছাত্র সমাজের সভাপতি মোস্তফা সিকদার প্রমুখ। এ সময় জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যুব সংহতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার ভান্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। প্রথমে তিনি ডাক্তারহাট শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাক্তারহাট বাজার, চড়াইল বাজার, মালিয়ার হাট, পৈকখালী বাজার, নয়াখালী মাটিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রভৃতি স্থানে গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও জনগণের সাথে আলাপ করেন এবং তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, সদ্য নির্বাচিত গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন। আনোয়ার হোসেন শনিবার রাতে ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের শিতলা আশ্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে দু’-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কখনই ধর্মীয় বিবাদ ঘটেনি। বিশেষত ভান্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যাগুরু মুসলমানদের সাথে সৌহার্দ্য-শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছে। আমরা যেকোন মূল্যে এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখব। এ অনুষ্ঠানে ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, মন্দির কমিটির সভাপতি বীরেন বসু, বিধান চক্রবর্তী, নাথুরাম দত্ত, ইন্দ্রভূষণ দত্ত ও ইউনিয়ন জেপি’র সভাপতি আব্দুল হালিম শরীফ বক্তব্য রাখেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার রাতে ভান্ডারিয়ার ধাওয়া-রাজপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার রাতে ভান্ডারিয়ার ধাওয়া-রাজপাশা মাধ্যমিক কারিগরিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এখানে তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান টুলু’র সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নিবার্হী কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বাদশা প্রমুখ। এখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।