বরিশালে মাছের আড়তে তরমুজ!

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৮
নগরীর মাছের আড়তগুলো এখন দখল করে নিয়েছে তরমুজ। যেখানে ট্রলারে প্রতিদিন শত শত মণ ইলিশ আসতো ও বিক্রি হতো—এখন সেখানে তরমুজ আসছে। ইলিশের মোকাম তরমুজের মোকামে পরিণত হয়েছে। পোর্টরোডের মত্স্য আড়তগুলো থেকে ইলিশের মতোই তরমুজ ট্রাকে তুলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রয়েছে। তাই ইলিশের সরবরাহ নেই। একই সময় তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষক ও পাইকাররা বিক্রয় কেন্দ্র হিসাবে মাছের আড়তগুলো বেছে নিয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, গত মৌসুমের চেয়ে এবার তরমুজের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে হেক্টর প্রতি ৩ টন। গত বছর তরমুজের ফলন ছিল হেক্টর প্রতি ৪২টন। এবার প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৪৫টন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় কৃষকরা ভালোভাবেই উত্পাদিত তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বলে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খোন্দকার সিরাজুল করিম জানিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ বিভাগের ৬ জেলায় ৩০ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। মোট ১৩ লাখ ৯০ হাজার ১৮৫ টন উত্পাদিত তরমুজ কৃষকরা বিক্রি করতে পারবেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বিপুল পরিমাণ তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিপুল টাকা মুনাফা অর্জন করবেন বলে সংশিষ্টরা আশা করছেন। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ পটুয়াখালীতে আবাদ হয়েছে। এ জেলায় ১৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজ আবাদ করেছে। ভোলায় ১১ হাজার ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে, বরগুনায় ৩ হাজার ১২০ হেক্টর, পিরোজপুরে ৭৫০ হেক্টর, বরিশালে ৪৭৬ হেক্টর ও ঝালকাঠীতে ৪৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে জানা যায়, উত্পাদন ভালো হওয়ায় কৃষক ও পাইকাররা মাঠ থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলে নগরীর পোর্টরোডস্থ মাছের আড়তগুলোতে নিয়ে আসছেন। দিন-রাত সমানতালে একের পর এক ট্রলারবোঝাই করে তরমুজ আসছে। মত্স্য আড়তদাররা এ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো আড়তদার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরমুজ বিক্রির জন্য ট্রাকযোগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মাত্র এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে তরমুজের কোনো ফলন হতো না। নাটোরসহ উত্তরাঞ্চল থেকে আসা তরমুজ এ অঞ্চলের মানুষ কিনে খেতো। এখন প্রতি বছর তরমুজের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা ধান ও রবি শস্যের চেয়ে তরমুজ চাষে বেশি লাভবান হচ্ছেন। এ কারণে তারা তরমুজ চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান।