গ্যাস সংকটের জন্য বন্ধ বিদ্যুত্ ইউনিটগুলো চালু করতে দেশের বৃহত্ ৪টি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্বান্ত নিয়েছে সরকার। সেই মোতাবেক ৪টি সার কারখানার মধ্যে ৩টির উত্পাদন বন্ধ করা হয়েছে। বিসিআইসির নির্দেশ মোতাবেক গ্যাস সংকটের কারণে আজ রবিবার রাত ৮টায় বন্ধ করা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার উত্পাদন।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সকালে আশুগঞ্জ সার কারখানার সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে কারখানার আভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়ক ও দপ্তর প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখে শ্রমিকরা। পরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে কারখানার সিবিএ সভাপতি সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক, আব্দুল কুদ্দুস, সহ-সম্পাদক আব্দুল জব্বার, শ্রম সম্পাদক মাইনুদ্দিন, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানা বিসিআইসির একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এ কারখানার গ্যাস সরবরাহ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এই মুহূর্তে কারখানা বন্ধ করলে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। ফলে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সকল আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। শ্রমিকরা কারখানা কমপক্ষে আরো ৪/৫ দিন চালু রাখার দাবি জানান। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ১ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশুগঞ্জসহ ৪টি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের একটি চিঠি আমাদের দেয়া হয়। সেই মোতাবেক আমরা কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। উল্লেখ্য, বিসিআইসি থেকে চলতি অর্থ বছরে আশুগঞ্জ সার কারখানার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৫ হাজার টন। কারখানা কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার পর্যন্ত উত্পাদন করেছে ২ লাখ ২১ হাজার টন। আরো ৩/৪ দিন কারখানা চালু থাকলে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। লক্ষ্য অর্জিত হলে নির্ধারিত হারে শ্রমিকদের টার্গেট বোনাস পাওয়ার বিধান রয়েছে।
