এবার বর্ষবরণে প্রত্যয়দীপ্ত নবযাত্রার আবাহন জানাবে ছায়ানট

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫২
এবারের বাংলা বর্ষবরণের প্রথম প্রহরে গানে গানে প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে ছায়ানটের শিল্পীরা রাষ্ট্রের এই ক্রান্তিকালে নবযাত্রায় শামিল হবার আবাহন জানাবেন। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। পহেলা বৈশাখ উদযাপন আর ছায়ানটের বর্ষবরণ বাঙালির কাছে সমার্থক হয়ে ওঠেছে। শুধু নতুন দিনকে আবাহন নয় প্রতিবাদের প্রেরণা হয়ে দেখা দিয়েছে ছায়ানটের এই প্রভাতী অনুষ্ঠান। রাজধানীতে বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ হলো রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। প্রতি বছরের মতোই রমনা বটমূলে ১৪২০ বঙ্গাব্দের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে আহ্বান জানাবে ছায়ানট। প্রভাতী এই আয়োজনকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনস্তর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে। গত বছরের মতো এবারও এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করছে গ্রামীণফোন। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র স্মৃতি মিলন কেন্দ্রে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের অনুষ্ঠানে মিলেমিশে থাকছে বাংলার সকাল, প্রকৃতি, দেশ আর মানুষের কথা। সজাগ বাঙালির ভালবাসার কথা ও সুর। পহেলা বৈশাখের ভোর সোয়া ছটায় সুরে এসরাজ-বাঁশি-বেহালার আলাপ দিয়ে শুরু হবে এ অনুষ্ঠান। পরে একক ও দলীয় সঙ্গীতের সাথে কথায় ফুটিয়ে তোলা হবে বাংলা আর বাঙালির অন্তরের কথা। গাইবেন বলবেন ছায়ানটের শিল্পী ও সঙ্গীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা। থাকবে কবিতা আবৃত্তিও। সম্মেলক গানের দলে সব মিলিয়ে অংশ নেবেন ১১০ জন শিল্পী। এর মধ্যে ছোটদের দলে গাইবে ৪২ জন শিশুশিল্পী। বড়দের দলে গানের পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৬৮ কণ্ঠশিল্পী। একক কণ্ঠে গান শোনাবেন ১৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন—খায়রুল আনাম শাকিল, চন্দনা মজুমদার, লাইসা আহমেদ লিসা, শারমীন সাথী ইসলাম ময়না, ফারহানা আখতার শার্লি, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি ও পাঠে ৩ জন অংশ নেবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন—জহিরুল হক খান। তাদের সঙ্গে থাকবেন দশ জনের যন্ত্রী। বরাবরের মতো প্রভাতী এ অনুষ্ঠান ছায়ানট সভাপতি ও রবীন্দ্র গবেষক ড. সন্জীদা খাতুনের বৈশাখী কথনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এবারের প্রভাতী আয়োজনে শিল্পীদের পোশাকে থাকবে লাল-সবুজের ছোঁয়া। ছেলেরা পড়বে লাল পাঞ্জাবি আর মেয়েদের পরনে থাকবে সবুজ শাড়ি। খোঁপায় থাকবে বেলী ফুলের মালা। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং তাদের লিংক ব্যবহার করে যে কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেল এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। এছাড়াও www.chhayanaut.org এবং www.drik.tv ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখা যাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন—ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। আরো উপস্থিত ছিলেন—ছায়ানটের সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ নাগ ও গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট রেসপনসিবিলিটি দেবাশীষ রায়।