এমনিতেই অডিও বাজারের অবস্থা একেবারেই নাজুক। তার ওপর বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশকেরা একেবারেই যেন গুটিয়ে বসেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলে আসছি একাধিক শিল্পীর অ্যালবাম তৈরি হলেও তা অডিও বাজারের অস্থিরতার কারণে রিলিজ হচ্ছে না। এ অবস্থায় বালাম, তপু, তাহসান, সোলস, মাইলসসহ একাধিক তারকার তৈরি অ্যালবাম করে রিলিজ হবে তা কেউই জানে না।’
এদিকে মহামন্দার এই বাজারে জি-সিরিজ, লেজার ভিশনসহ বেশ কিছু অডিও কোম্পানি যখন শিল্পীদের রয়্যালিটি বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামমাত্র লগ্নিতে অ্যালবাম বের করলেও বর্তমান এই মহামন্দার বাজারে একমাত্র নিয়মিত অ্যালবাম প্রকাশের দুঃসাহস দেখাচ্ছে সিডি চয়েজ। অধিকাংশই নবাগত শিল্পীদের নিয়ে গড়া এই অডিও প্রতিষ্ঠান শিল্পীদের এককালীন মূল্যেই অ্যালবাম কিনছে বলে শোনা যায়। এমনকি গেল বছর জি-সিরিজ থেকে বেরিয়ে এসে তৌসিফও দীর্ঘদিন পর তার পূর্বের চুক্তি ভেঙে সিডি চয়েজ এই অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে সিডি চয়েজের কর্ণধার এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আমি অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই এখনও অডিও যুদ্ধে সামিল আছি। কারণ সিডি চয়েজ একেবারে এ দেশের মিউজিকের ক্রান্তিকালে শুরু করে আজকে এই অবস্থানে এসেছে নিজেদের অধ্যবসায়ে। কারণ আমার প্লাটফর্মে সব সময় নতুনদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
যদিও এই প্রতিষ্ঠানে অ্যালবাম ডিজাইন ও গীতিকার-সুরকারদের সম্মান ঠিকমতো দেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। তবুও আমাদের ইন্ডাস্ট্রির এই ক্রান্তিকালে নিয়মিত অ্যালবাম রিলিজ ও ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকায় রয়েছে এই অ্যালবামটি।
তবে এত হিসাব-নিকাশের পরও সিনিয়র তারকাদের কোনো ধরনের অ্যালবাম প্রকাশ তো দূরের কথা। তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম কবে বের হয়েছে সেটিও বোধ করি শ্রোতারা মনে করতে পারবেন না। এ দেশে শাকিলা জাফর, তপন চৌধুরী, কনক চাঁপাসহ একাধিক শিল্পীরা এখন শুধু স্টেজেই গাইছেন। তাদের অ্যালবাম বের করা যায় সেটিও ভুলে গেছেন সকলে। এরপরও আসছে বৈশাখে এবারের দেশের এই পরিস্থিতিতেও শহরে বা শহরের বাইরে কিছু অডিও অ্যালবামের পোস্টার শোভা পাচ্ছে এটাই যেন অনেক প্রাপ্তি। তবে সকলেই প্রত্যাশা করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার পরপরই অডিও বাজারের অবস্থা অভাবনীয়ভাবে ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
