ইউরো এলাকায় বেকারত্বের হার এখন প্রায় ১২ শতাংশ। ১৯৯৯ সালে ইউরো চালু হওয়ার পর এটাই সর্বোচ্চ বেকারত্ব। এই বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই গত রবিবার স্প্যানিশ তরুণরা ইউরোপের শহরে তরুণরা সমাবেশ-র্যালি করেছে। এদিকে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো পাসোস কোয়েলহো দেশবাসীকে বেইল আউট নিয়ে সতকর্তা জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরা ও ডয়েচে ভেলের।
ইউরোস্ট্যাট সংস্থার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মধ্যে বেকারত্বের হার গ্রিসেই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। গত ডিসেম্বরে গ্রিসে বেকারত্বের হার ছিল ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী গ্রিসের পরেই আসে স্পেন। তাদের বেকারত্বের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ। স্পেনের পর পর্তুগাল, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বেকারত্ব সবচেয়ে কম অস্ট্রিয়া (৪ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং জার্মানিতে (৫ দশমিক ৪ শতাংশ)।
দুশ্চিন্তাটা আসলে যুব বেকারত্ব নিয়ে, যার পরিসংখ্যান একটা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের আশংকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রিসে গত ডিসেম্বরে যুব বেকারত্বের পরিমাণ ছিল ৫৮.৪ শতাংশ, স্পেনে ৫৫.৭ শতাংশ, পর্তুগালে ৩৮.২ শতাংশ এবং ইটালিতে ৩৭.৮ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মসংস্থান কমিশনার লাজলো আন্ডার বলেছেন, ‘বেকারত্বের অগ্রহণযোগ্য উচ্চ হার ইউরোপের পক্ষে একটি ট্র্যাজেডি। ইইউ’কে চাকরি সৃষ্টির জন্য যাবতীয় পন্থা নিয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের সাহায্যের প্রয়োজন।’ কিন্তু শিল্পোত্পাদনের ক্ষেত্রে যে সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা খুব আশাজনক নয়। বছরের প্রথম তিন মাসে শিল্পোত্পাদন কমেছে। ২০১৩ সালের বাকি সময়টাতে ইউরো এলাকার অর্থনীতি শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমবে বলে খোদ ইউরোপীয় কমিশন ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। এরকম পরিস্থিতিতেই গত রবিবার স্পেনের বিভিন্ন শহরে এবং পৃথিবীর ৩০টি দেশে স্পেনের দূতাবাসের সামনে র্যালি ও সমাবেশ করেছে তরুণরা। ইয়ুথ উইদাউট এ ফিউচার নামে স্প্যোনিশ তরুণদের একটি সংগঠণ উচ্চ বেকারত্ব হার এবং কাজের নিম্ন পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ইউরোপজুড়ে এই কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল।
