শিক্ষাগত সনদপত্র জাল করার প্রমাণ পাওয়ায় রবিবার বর্তমান এক সিনেটর এবং সাবেক ১০ পার্লামেন্ট সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। তাছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয় লাভের পর যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল তাও প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা জানায় কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়। খবর ডন অনলঅইনের।
এসব অযোগ্য সদস্যরা হলেন- সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বর্তমান সিনেটর মীর ইসরারুল্লাহ জেহরি, সাবেক সিনেটর মোহাব্বাত খান মেরি ও রেহানা যায়াহ বেলুচ, সাবেক প্রাদেশিক পার্লামেন্ট সদস্য মীর নাদির মাগসি, নওয়াবজাদা তারিক মাগসি, সামিনা খাওয়ার হায়াত্, সীমাল কামরান, শুমাইলা রানা, সাবিনা খান, রানা আইজাজ আহমেদ এবং বশির আহমেদ খান। দেশটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৪,০০০ এর বেশি মনোনয়নপত্র কাজ সম্পন্ন করার পর কমিশন ঐ সিদ্ধান্ত নেয়।
দেশটির উচ্চ শিক্ষা কমিশন (এইচইসি) জাল সার্টিফিকেটের প্রমাণ পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কমিটি দুই বছরের বেশি সময় আগে ৬০ জন পার্লামেন্ট সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি করে। অভিযোগের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এদের ভেতর ২৭ জনকে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। পরে সুপ্রিমকোর্ট ঐ ২৭ ব্যক্তির মামলা রিভিউ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়। তাদের তিনজন মারা গিয়েছে এবং গত শুক্র ও শনিবার বাকী ২৪ জনের মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে শুনানি করে কমিশন। সাবেক গণপরিষদ সদস্য মুকেশ কুমার চাওলার মামলায় কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তবে বেলুচিস্তানের গণপরিষদ সদস্য ও বতর্মান সিনেটর রবিন ইরফানের মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। ‘রবিনের ডিগ্রি জাল নয় প্রকৃত’ এইচইসির এমন লিখিত বক্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এদিকে সাবেক সদস্য পিতাম্বর সেওয়ানির মামলার শুনানি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে। তার বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া সিনেটর নওয়াবজাদা মুহাম্মদ আকবরের মামলার শুনানি এখনো চলছে। বাকী ৯ সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে কোন মামলা না নেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক বলে এইচইসি কমিশনকে জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ১,৫০০ মনোনয়ন পত্র রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছে কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের স্টাফ, কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড, স্টেট ব্যাংক, জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো, জাতীয় ডাটাবেস কর্তৃপক্ষ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রার্থীদের কোন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ঋণ, কর ফাঁকি, ঋণ খেলাপি ইত্যাদি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ প্রমাণ মিললে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে।
