দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও বিষাক্ত সাপের খবর পেলেই সাথে সাথে নগরীর কাউনিয়ার বিসিক এলাকার (বেগের বাড়ি) বাসিন্দা খোকন গাড়ুলী ছুটে যান সেই সাপের সন্ধানে। ধরে ফেলেন ফণা তোলা বিষাক্ত সাপ। এভাবে গত ২৮ বছরে ২০ হাজারেরও বেশি বিষাক্ত সাপ ধরেছেন খোকন। দু’ সহস্রাধিক সাপে কাটা রোগীকে চিকিত্সা দিয়ে সুস্থ করেছেন তিনি। এখনো পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে সাপের খবর পেলেই খোকন ছোটেন সেখানে। জীবন্ত সাপকে বীরদর্পে ধরে নিয়ে আসেন। এ অঞ্চলে যারা সাপ ধরা এবং সাপে কাটা রোগীর চিকিত্সা প্রদানসহ সাপের খেলা দেখান তারা সকলেই বংশ পরম্পরায় এ পেশার সাথে যুক্ত। কিন্তু খোকন গাড়ুলী ব্যতিক্রম। তার পূর্ব পুরুষরা কেউ বেদে বা সাপুড়ে সম্প্রদায়ের লোক ছিল না। কিশোর বয়সে ঢাকার বিক্রমপুর থেকে আসা সাপুড়ে বেদে দলের কাছ থেকে শখের বসে সাপ ধরা এবং সাপ নিয়ে খেলা করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে ওস্তাদ বাদল স্বর্পরাজের কাছ থেকে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ওস্তাদ বাদলের সাথে বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়িয়েছেন খোকন। নানান কলা-কৌশল শিখেছেন ওস্তাদের কাছ থেকে। খোকন গাড়ুলি জানান, গ্রাম-গঞ্জে এখন আর আগের মত বিষধর সাপের দেখা মেলে না। তবে শহরেও মাঝে-মধ্যে বিষধর সাপের আনাগোনা প্রায়ই চোখে পড়ে। খোকনের মতে, এ অঞ্চলে বর্তমানে ১২ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এরমধ্যে কালিজাত, খইয়াজাত, পদ্ম গোখরা, আইরাজ, পাতরাজ, সূর্যমুখী ও দাঁড়াইশসহ ২০ হাজারের বেশি বিষাক্ত সাপ সে একাই নিজ হাতে ধরেছেন। সাপে কাটা রোগী ও কুকুরে কামড়ানো রোগীর ভ্যাকসিন কয়েক বছর যাবত্ সরবারহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালে গিয়ে রোগীরা কোন চিকিত্সা পান না। তাই সাপে কাটলে খোকনের মত ওঝাদের ঝাড়-ফুঁকই হচ্ছে বাঁচার একমাত্র উপায়। খোকনের ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে এখন ৮/১০টি সাপ রয়েছে। এগুলো ঝাঁপিতে রেখে তিনি পোষেণ।
