ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের বীজ আলু উত্পাদন করছে। এ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলার ডোমার এবং গাজীপুর জেলার কাশিমপুরে দুটি টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে। ল্যাবরেটরি দুটি থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ প্ল্য¬ান্টলেট উত্পাদন করে তা থেকে অতি মূল্যবান মিনি টিউবার এবং মিনি টিউবার থেকে ব্রিডার ও ভিত্তি বীজ উত্পাদন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে হল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত বীজ থেকে উন্নতমানের আলু বীজ দেশেই উত্পাদিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। বিএডিসি আশা করছে কয়েক বছরের মধ্যে বিদেশ থেকে বীজ আলু আমদানি শূন্যের কোটায় পৌঁছবে।
সূত্র মতে, বিএডিসির কৃষি বীজ উন্নয়ন এবং বর্ধিতকরণ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৭টি জেলার ৩৮ উপজেলায় কারেজ, এস্টারিক্স, লেডি রোসেটা ও সাগিতা জাতের উন্নতমানের আলুর বীজ উত্পাদন করে বিএডিসি। নতুন জাতের আলু ছাড় করা হয়েছে। ছাড়কৃত জাতের আলু ও স্ট্রবেরি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করার জন্য প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছে। দেশেই এসব নতুন জাতের বীজ উত্পাদন হওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। উল্লেখ্য, কারেজ, এস্টারিক্স, লেডি রোসেটা ও সাগিতা জাতের আলুগুলো শিল্পে ব্যবহার উপযোগী এবং ফলন একর প্রতি প্রায় ১০-১২ টন যা প্রচলিত উফশী জাতের আলুর চেয়েও বেশি। জাতগুলো কৃষক পর্যায়ে সমাদৃত হলে কৃষকরা এ আলু উত্পাদন করে চিপস ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করতে পারবেন এবং অধিক মুনাফা অর্জন করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
