প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর কৃষকরা সেচনির্ভর বোরো ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে বোরোর আবাদ কমেছে প্রায় ৬০ হাজার বিঘা। উল্লেখিত পরিমাণ জমিতে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা গম, ভুট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন। কৃষক ও কৃষিবিদরা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর কৃষক কম সেচের ফসল আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ এবং বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তরফ থেকেও কৃষকদের উত্সাহিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিগত মৌসুমে বোরো ও আমনের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা এমনিতেই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। তারপরেও কৃষক বোরো আবাদের জোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়েন। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় অধিকাংশ কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বোরো চারার তীব্র সংকটের মুখে পড়েন কৃষক।
এদিকে চলতি মৌসুমের বোরো আবাদ এখনো ভালো আছে। কোথাও মারাত্মক সেচ সংকট তৈরি হয়নি। পবার বিল নেপালপাড়ার কৃষক নূরুল আমিন জানান, গতবছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। এবার বোরো আবাদ করেছেন মাত্র ৪ বিঘা জমিতে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় তার সমস্ত বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ায় ৮ হাজার টাকার চারা কিনে ৪ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেন। অনেকে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে চারা কিনে বোরো আবাদ করেছেন বলে জানান তিনি। তবে এখনো সেচ ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সকলের বোরো আবাদ ভালো আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ৬৮ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। অথচ বোরো আবাদের টার্গেট ছিল ৭৪ হাজার ৮৯৬ হেক্টর।
