হেফাজতে ইসলাম আহূত গতকাল সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে রাজধানীতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ফজরের নামাজ শেষে হেফাজত কর্মীরা মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ রোড এলাকায় কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা ১৩ দফা দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। হরতালের সময় রাজধানীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। অনেক দোকানপাট খোলা ছিল। কাঁচা বাজারগুলোতে হরতালের প্রভাব পড়েনি।
ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে নেয়ায় রাজধানীর সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস না ছাড়লেও লঞ্চ ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। হরতালে রাজধানীর প্রায় সব এলাকা ছিল পিকেটিংমুক্ত। কোনো বোমা-ককটেল ফাটেনি। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। সহিংসতা রোধে অন্যান্য হরতালের মতো গতকালও রাজধানীর সর্বত্র পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল; কিন্তু অধিকাংশ এলাকায় হরতালের পক্ষে তেমন কোনো পিকেটিং না থাকায় এসব বাহিনীর মোতায়েনকৃত সদস্যদের দিনভর অলস সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়। সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থানার আশরাফাবাদ এলাকার বেড়ীবাঁধে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা এলাকায় খেলাফত আন্দোলনের সমর্থকেরা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ-মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, হেফাজতে ইসলামের হরতালে কয়েকটি স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ও ককেটল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হরতাল চলাকালে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড়া শিববাড়ী মোড়ে কয়েকটি দোকান ও বৈদ্যুতিক মিটার এবং আওয়ামী লীগ সমর্থনকারীর একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৭ রাউন্ড টিআরসেল ও কয়েক রাউন্ড বাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ৮ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সাংবাদিক ও ৮/১০ জন হরতালকারী আহত হয়েছে। হরতাল চলাকালে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা বিভিন্নস্থানে মিছিল ও পিকেটিংয়ের চেষ্টা করে।
