বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে বরিশালে ইলিশ ধরাছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। দাম শুনে অনেক ক্রেতা খালি হাতেই বাজার থেকে ফিরে আসছেন। এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। নববর্ষের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের দামও বাড়ছে। ঢাকার ইলিশ ব্যবসায়ীরা বর্ষবরণের ইলিশ সংগ্রহের জন্য এখন দক্ষিণাঞ্চলের ঘাটে ঘাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গতকাল সোমবার মাছের আড়ত্গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। একদিকে মত্স্য অভয়রাণ্যে মাছ শিকার বন্ধ অন্যদিকে নববর্ষে ইলিশের চাহিদার কারণে মাছের বাজারে যেন আগুন ধরে গেছে।
গতকাল পোর্ট রোডের আড়ত্গুলোতে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৭০ হাজার টাকায়। ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি মণের দাম ছিল ৪২ হাজার টাকা। এক সপ্তাহ পূর্বে এর মূল্য ছিল প্রতি মণ ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ১২শ’ থেকে ১৫শ’ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে লাখ টাকার উপরে। তবে এ সাইজের ইলিশ পাওয়াটা খুবই মুশকিল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মেঘনা, তেতুলিয়া ও বঙ্গোপসাগর থেকে হাতে গোনা যে সব ট্রলার ইলিশ নিয়ে নগরীর পোর্ট রোড ঘাটে আসছে তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পাইকার, ফঁড়িয়া ও সাধারণ ক্রেতারা।
ইলিশ কিনতে ব্যর্থ নিম্নআয়ের মানুষ ইলিশের স্বাদ পেতে চাপলী মাছ কিনছেন। বড় পুঁটির চেয়ে একটু বড় এ মাছ দেখতে অনেকটা ইলিশ মাছের মতোই। স্বাদে গন্ধে যেন সত্যিকারের রূপালী ইলিশ। জেলে-পাইকাররা এ মাছকে ইলিশের বাচ্চা হিসেবেই চেনেন। প্রত্যেক দিন সকালে-বিকালে পোর্ট রোড, তালতলী ও বেলতলা খেয়াঘাটে বিপুল পরিমাণ চাপলী মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাপলী মাছের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ৮/১০টি চাপলী মাছে এক কেজি ওজন হয়। পাইকার জেলেদের মতে গড়ে প্রতি দিন ২/৩শ’ মন চাপলী মাছ এখানকার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
শুধুমাত্র বরিশাল শহর নয় ইলিশের চাহিদা বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সকল মোকামে। কলাপাড়ায় ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। এক কেজির উপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকার উপরে। গলাচিপায় ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় সাইজের ইলিশ ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্ মত্স্য বন্দর পাথরঘাটায় বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে প্রতি কেজি ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়। ইলিশের দাম একেক স্থানে একেক রকম হওয়ার কারণ সম্পর্কে পাইকাররা জানান—ঢাকার ব্যবসায়ীরা বড় সাইজের ইলিশ কিনতে দুর্গম এলাকায় যান না। তারা বরিশাল নগরী ও আশে-পাশের এলাকা থেকে বড় সাইজের ইলিশ কিনতে আগ্রহী। তারা নগরীর পোর্ট রোডের মোকাম ও আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে চড়া দামে ইলিশ কিনছেন। পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশির ভাগ ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়, বরিশালের বাজারে আসে না। ফলে বরিশালে সংকট বেশি। দাম নিয়েও একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ইচ্ছামতো দাম রাখা হচ্ছে। তাজা ও বড় ইলিশ হলে বাড়তি দিতে তেমন আপত্তিও করছেন না ঢাকার ব্যবসায়ীরা।
