জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকলরিকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে। শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর এলাকার প্রধান কার্যালয়ে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার থেকে এ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এ ধর্মঘটের কারণে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম রিভারাইন অয়েল ডিপো বিপিসি’র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে শত শত ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন চত্বরে এবং বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে দাঁড়িয়ে আছে। ধর্মঘট চলাকালে বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপোর ভিতরে কোন ট্যাংকলরি প্রবেশ না করায় বিপিসি’র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অয়েল ডিপো একেবারেই শূন্য রয়েছে। এদিকে সোমবার ভোরে বগুড়া জেলার শেরপুর থেকে তেলবাহী একটি ট্যাংকলরি (ঢাকা-ন ৪৯৯০) বাঘাবাড়িতে আসার পথে উল্লাপাড়া উপজেলার শ্রীকোলা মোড়ে হরতাল সমর্থকরা সেটি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হরতাল সমর্থকরা চালক ও হেলপারকে বেধড়ক মারপিট করে। এ খবরে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে শাহজাদপুর ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে সোমবার বিকালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেলবাহী ট্যাংকলরিকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করা হয়। এই ধর্মঘটের কারণে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরের অবস্থিত বিপিসি’র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর সবধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। উল্লেখ্য, বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে প্রায় সাড়ে ৫শ’ তেলবাহী ট্যাংকলরি চলাচল করে।
