প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, দশম সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে এর পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ও পদ্ধতি নিয়ে দেশের বড় দুই জোটের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের আশা করছে কমিশন। এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে আজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শওকত আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ ইসি সচিবালয়ে কমিশন বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
সিইসি বলেন, ২০ মার্চ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ১৮ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন আয়োজনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম প্রস্তুত করা ও সংসদ সদস্যদের নাম ও বিভক্তিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করার আইনী বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদের সংসদীয় এলাকার সীমানা পুন:নির্ধারণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। বিগত ১০ মার্চ পর্যন্ত কমিশনের প্রকাশিত খসড়া গেজেটের ওপর আপত্তির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে বেশিরভাগ আপত্তি পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন নির্বাচনী আসন নিয়ে। দেশের অন্যান্য স্থানে খুব বেশি আবেদন পড়েনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিগগিরই শুনানি শুরু হবে। এরপরেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত বিএনপির দাবি নাকচ করার সময় হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী (আরপিও) চূড়ান্ত করা হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বৈঠকে উপজেলা পরিষদ (নির্বাচনের আচরণ) বিধিমালা প্রণয়ন ও দেশের পাঁচ সিটি রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও নব-গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই ৫ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই সবগুলো সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। তবে গাজীপুরের নির্বাচন আগে এবং পরবর্তী অভিন্ন দিনে একই সঙ্গে বাকি চার সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
