চারু ও কারুকলা
মাঈনউদ্দীন আহমেদ মাহী
সহঃশিক্ষক চারু ও কারুকলা
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ,মোমেনশাহী।
মূলবই বেশি বেশি পড় সৃজনশীলতা বাড়বে।
অধ্যায় ঃ বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের পরিচয়”
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। আশা নয়, বিশ্বাস তোমরা সবাই ভালো আছো। সৃষ্টির সূচনালগ্নে মানুষ যখন জাদু বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে পাহাড়ের গায়ে বা গুহায় বিভিন্ন প্রাণীর বা দেবদেবীর ছবি আঁকতো; সেই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত মানুষ নিজের সুন্দর মননশীল রুচিবোধের প্রকাশ ঘটানোর জন্য শিল্পকলার চর্চা করে যাচ্ছে। প্রকৃতিকে স্থির ও সুশৃংখলভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাকে মানসিক, দৈহিক ও নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গির শীর্ষ পর্যন্ত ও সৃজনশীলতা বিকাশ করতে ৮ম শ্রেণীর চারু ও কারুকলা পাঠ্যপুস্তকে নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির উদ্দেশ্যগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। যেহেতু এবছর জেএসসি পরীক্ষায় চারু ও কারুকলা বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন; তাই অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন। আশা করছি সবাই এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিবে। আজ আমি “বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের পরিচয়”- ১ম অধ্যায় থেকে অনুশীলনের প্রশ্নের বাইরে থেকে সম্ভাব্য কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করবো। আশা করি সংগ্রহে রাখবে।
১। বাংলাদেশের তাঁতের শাড়ি কেন বিখ্যাত তা আলোচনা কর।
২। চিত্রশিল্পীরা কিভাবে সহজ ও সুন্দর, রুচিশীল জীবন যাপনে অবদান রাখে তা বর্ণনা কর।
৩। অশোক কোন বংশের সম্রাট ছিলেন? কেন তাকে শক্তিশালী সম্রাট বলা হতো?
৪। বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলা সম্পর্কে আলোচনা কর।
প্রশ্ন :পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি কেন প্রাচীন শিল্পকলা হিসেবে টিকে আছে?
বর্তমানে এগুলো কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে?
উ: ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চল পলিমাটির অঞ্চল নরম মাটি ও জলাভূমি। ছোট-বড় অসংখ্য নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবসময় যেন লেগে আছে। খ্রিষ্টের জন্মের আগে থেকেই এই বাংলার মানুষজনের মহল ও বাড়ি-ঘর ইটের দেয়াল, পাথরের খিলান অর্থাত্ শক্ত করে তৈরি হতো। বেশির ভাগ বাড়ি-ঘরই ছিল ছনের, মাটির, বাঁশের ও খড়ের। ফলে ঝড়-ঝঞ্ঝা ভূমিকম্পের কারণে এসব বাড়ি-ঘর ও দালান মাটি চাপা পড়ে যেত। বাংলাদেশের মাটির স্তূপ ও গড় অঞ্চল খনন করে আবিষ্কৃত হয় পাহাড়পুর, ময়নামতি ও মহাস্থানগড়ের জনপদ। দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। চিত্রকলা ও নরম উপাদানে তৈরি কোনো শিল্পকর্ম মাটির নিচে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। তাই রক্ষা পেয়েছে কেবল পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি; যা বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা করে। বর্তমানে এসব রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর, বগুড়ার মহাস্থানগড়, কুমিল্লার ময়নামতি ও রাজশাহীর পাহাড়পুর জাদুঘরসহ ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রশ্ন :বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলা সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।
উ:বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছু বলা মুশকিল। কারণ ৮ম শতাব্দীর পূর্বেকার কোন শিল্পকর্মের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গেছে পাল যুগের ভাস্কর্য ও চিত্রকলায়। ৮ম শতাব্দীর মধ্যভাগে পাল সাম্রাজ্যের পত্তন হয়। একক ও বিশাল সাম্রাজ্যের অধীনে গুপ্তরীতির আঙ্গিকে এ সময়ের শিল্পকলা গড়ে ওঠে সর্বভারতীয় মার্গ রীতি অনুসারে। অবশ্য ১০ম শতাব্দীর আগেকার কোন চিত্রকলার সম্মান পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক কারণেও এগুলোর অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে বলে পণ্ডিতদের ধারণা। তবে পাথরের তৈরি ভাস্কর্যগুলো আবহাওয়াগত কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি।
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক বা স্থাপত্যকলার নিদর্শনাদির মধ্যে ময়নামতি, বড়কাটরা, ছোটকাটরা, লালবাগের দুর্গ, বিনতবিবির মসজিদ, খান মোহাম্মদ মৃধার মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আহসান মনজিল, সাতগম্বুজ মসজিদ, নারায়ণগঞ্জের হাজিগঞ্জ দুর্গ; সোনাকান্দা দুর্গ, মুন্সীগঞ্জের ইন্দ্রাকপুর দুর্গ, পাবনার জোড় বাংলা মন্দির, ফরিদপুরের মথরাপুর দেউল; জোড় বাংলা মন্দির, ময়মনসিংহে এগার সিন্ধুর সাদী মসজিদ, শাহ মোহাম্মদ মসজিদ, সিলেট শাহজালালের মাজার, শাহ পরানের মাজার, জমন্তীয়াপুর মেগালিথ পাথর, কুমিল্লার সতেরো রত্নমন্দির, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির মাজার, পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থানগড় উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজশাহীর ছোট সোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, পুঠিয়ার রাজবাড়ির মন্দির, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, খানজাহানের প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। পরিশেষে বলা যায়, উপমহাদেশের শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলায় বাংলা এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।
