যাঁর অবদান
দীলতাজ রহমান
মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়া গ্রাম,
জন্ম নিলো সোনার ছেলে খোকা যে তার নাম।
সেই খোকাটি বড় হয়ে করলো মহত্ কাজ,
তারই মহান অবদানে দেশটি স্বাধীন আজ।
দেশ ও জাতির দুঃখ-ব্যথায় কাঁদতো যে তার প্রাণ,
লাল-সবুজের এই পতাকায় মুজিব রহমান।
---
প্রাণের মেলা
বাতেন বাহার
চৈত্রমাসের শেষ বিকেলে রাঙিয়ে আকাশখানি
নতুন দিনের নতুন সুর জাগায় আশার বাণী।
বট পাতাতে দাওয়াতনামা-আল্পনা হয় আঁকা।
ঝড় হাওয়ায় বাতাস করে লক্ষ তালের পাখা।
শখের খাবার পান্তা-ইলিশ সন্ধে জুড়ে মেলা
হালখাতাতে মিষ্টি-মধুর গল্পে কাটে বেলা।
আম মউ মউ দিনের আভাস জাম মউ মউ রস।
বাঙালিদের প্রাণের মেলা বৈশাখী উত্সব।
---
সবার ভালোবাসা
আবুল হোসেন আজাদ
বৈশাখ এলো চৈত্রশেষে গাছে সবুজ পাতা,
সংগে শুভ নববর্ষ দোকানীর হালখাতা।
বৈশাখ আসে ঈশান কোণে কাল বোশেখির ঝড়ে
ওড়ে খড়ের চালা এবং উপড়ে গাছও পড়ে।
বৈশাখ এলো সঙ্গে নিয়ে বৈশাখী আজ মেলা,
মেলাজুড়ে খেলনাপাতি, খাবার, সার্কাস-খেলা।
বৈশাখে এলো নতুন করে নিয়ে স্বপ্ন-আশা
চাই যে সবাই এক হয়ে সবার ভালবাসা।
---
নতুন বছর
ইউসুফ আল আজাদ
নতুন বছর নতুন দিনে খুশির হাওয়া বয়,
নতুন দিনে নতুন আশা বুকে জেগে রয়।
নতুন দিনে নতুন ভোরে স্বপ্ন আসে মনে,
পাখ-পাখালি নতুন সুরে ডেকে ওঠে বনে।
নতুন দিনে নতুন করে স্বপ্ন বোনা হয়।
হূদয় মাঝে মন পাখিটা নতুন কথা কয়।
নতুন দিনে নতুন বছর হোক নতুনের জয়।
মন্দ এবং গন্ধ যত মানুক পরাজয়।
===
বিষ্টি-বাতাস
আলম তালুকদার
বাতাস আসে যখন তখন
বাতাস মানেই
খারাপ নয়
ঘূর্ণি বাতাস কমায় ভয়।
বিষ্টি আসে যখন তখন
বিষ্টি মানেই
সতেজ প্রাণ
খরার মধ্যে সবুজ ঘ্রাণ।
বাতাস আসে যখন তখন
বাতাস মানেই
জুড়ায় জ্বালা
গুমোট বলে জলদি পালা।
বিষ্টি আসে যখন তখন
বিষ্টি মানেই
বিনাশ নয়
সৃষ্টির দেখি নিত্য জয়।
---
ছড়া
সারওয়ার ইসলাম
নাগরদোলা, বেলুন-বাঁশির
শব্দ হাওয়ায় ভাসে,
পান্তা-ইলিশ, খই-বাতাসা
বোশেখ নিয়ে আসে।
গ্লানি ভুলে সুখে-দুঃখে
থাকবো সবার পাশে।
----
বৈশাখ প্রিয় মাস
জাহাঙ্গীর আলম জাহান
বৈশাখ বাঙালির প্রাণপ্রিয় মাস
বৈশাখে হাসি-খুশি, কি যে উল্লাস!
চারিদিকে ফসলের মৌ মৌ ঘ্রাণ।
বৈশাখে জেগে ওঠে বাঙালির প্রাণ।
রকমারি পিঠা-খৈ, বৈশাখী মেলা
বারোয়ারি আয়োজনে যায় সারাবেলা।
নবতর প্রেরণায় জাগে চারিপাশ
বৈশাখ বাঙালির প্রিয়তম মাস।
----
বোশেখ যেন
হানুফা ইমদাদ
বোশেখ যেন মিষ্টি নানি
কোমল তার বদলখানি।
কথায় কথায় মিষ্টি ছড়ায়
হাসি রসে বেলা গড়ায়।
চন্দ্রমুখে চন্দ্রকলা
খই ফোটানো কথাবলা
রাঙা শাড়ির ঘোমটা মুখে
দুষ্টুমি তার কপট চোখে।
বছর শুরুর প্রথম দিনে
আপন-পর নেয় যে চিনে।
মেলার মাঠে খেলার ছলে
কানে কানে কথা বলে।
বোশেখ নানির রাঙা হাত
ছুঁয়ে দিলে সবাই কাত।
----
বৈশাখী মেলা
সুলতান আকন
বৈশাখী মেলাতে
মন মাতে খেলাতে।
কি বাঁশির সুররে
হুররে হুররে।
ঢাক-ঢোল বাজারে
মুখরিত সাজেরে।
চারদিকে হই চই
রই রই রই রই।
গুড়ুম গুড়ুম ডাকে মেঘ।
বাতাসের বাড়ে বেগ।
দোলে আম ওই শাখে
কি মজা বৈশাখে।
----
হালখাতা
মোহাম্মদ ইলইয়াছ
ডালে ডালে কচিপাতা দোলে বনে বনে
নববর্ষের নতুন খাতা খোলে মহাজনে।
পুরোন দিনের হিসেব এলো লাল মলাটের খাতায়
পাওনাদার আর দেনাদার, মনটি শুধু মাতায়।
হরেক রকম মিঠাই মুড়কি উঠবে পাতে পাতে
খুকুমণি নাগরদোলায় দুলবে দিদির সাথে।
ঢোল বাজে তাক ধিনা ধিন, এলো নতুন ভোর
বোশেখ মাসের নতুন দিনে খুললো পুরোন দোর।
----
মানিকপুরে মেলা
ডা. আদনান
মানিকপুরে মাঝিপাড়ার বাঁ দিকটার মাঠে,
বোশেখ মাসের পয়লা দিন হৈ-হুল্লোড়ে হাঁটে
মাঠটা জুড়ে মেলা বসে, কি আনন্দ ভাই,
সারাটা দিন মেলায় ঘুরে কদমা, নাড়ু খাই।
হাওয়াই মিঠাই, মুড়ি মুড়কি, বিন্নি ধানের খই,
মাঘের পিঠা, মণ্ডা মিঠাই, কিযে হৈ চৈ।
নাগর দোলায় খাই চক্কর ওপর থেকে নিচে,
বীণের সুরে সর্প নাচে, একটুও নয় মিছে।
এমনি করে একটা সময় সাঙ্গ হবে খেলা।
মানিকপুরে ফি বছরই বসে প্রাণের মেলা।
---
বৈশাখী
মণিকাঞ্চন ঘোষ প্রজীত্
নতুন ভোরে নতুন করে একটি ছবি আঁকি;
সবুজ পাতার ঘুম ভেঙেছে গাইছে সকল পাখি।
মেলায় যাবার সময় হলো ফুল পাখি সব আয় রে;
ঘাস ফড়িং আর প্রজাপতি উড়ে উড়ে যায় রে।
