ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একটু স্বস্তির খোঁজে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৩০
২ মার্চ। মনের অনেকটা অংশ জুড়ে ছিল আনন্দের জোয়ার আর এক কোণে ছিল হরতালের প্রতিবন্ধকতার ভয়। তবুও প্রকৃতির মাঝে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার আশায় রাত ৯টায় একত্রিত হয়েছিলাম আইন অনুষদের সামনে, গাড়িতে উঠার প্রাক্কালে। ৩৬তম ব্যাচের বহুল আরাধ্য শিক্ষা সফর। আমাদের পরিকল্পনা ছিল বান্দরবান হয়ে কক্সবাজার, অতঃপর সেন্টমার্টিন। আমাদের সফর তদারককারী হিসেবে ছিলেন সবার প্রিয় ইমন স্যার। তিনি এসে বললেন পরদিন হরতাল আছে, বান্দরবান যাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে গেল, অবশ্য বৃহত্ স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ছাড়াই যায়। শহীদ মিনারের সামনে থেকে দুটো বাসে আমরা ৬৫ জন রওয়ানা দিলাম কক্সবাজারের পথে। সারা রাত বাসের ভিতরে নাচ-গানের জোয়ার। কক্সবাজার পৌঁছলাম সকাল ১১টায়। হোটেলে গিয়ে যার যার রুম বুঝে নিলাম। ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে ত্বরিত ছুটে গেলাম সমুদ্র সৈকতে। অন্য রকম ভাললাগা সবার মাঝে; কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ পানির সাথে মাতোয়ারা। বালু নিয়ে মানুষ গড়া, সৈকতে ফুটবল খেলা- নানান উচ্ছ্বাস। হোটেলে ফিরে গোসল করে সবাই একসাথে খাবার টেবিলে। সমুদ্রের মাছ দিয়ে দুপুরের খাবার তৃপ্তি ভরে খেলাম। ভ্রমণজনিত ক্লান্তি সাগরের নীলে যেন উধাও। স্যারের কথা অনুযায়ী পরের গন্তব্য হিমছড়ি। একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র যেন ঘোরের দুনিয়া। পাহাড়ের পাদদেশে উঁচু সিঁড়ি দেখে ভয় পেলেও হাল ছাড়িনি। শেষতক উঠে পড়লাম পাহাড় চূড়ায়। নেমে পরের গন্তব্য ইনানি সৈকত। সূর্যাস্তের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা সকলের চোখে-মুখে। ওদিকে মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে গেল বার্মিজ মার্কেটে যাওয়ার জন্য। রাতে খুশি মত কেনা কাটা হল, বিশেষ ভাবে আচার। ক্লান্তিহীন কাটছে সময়, তবু হোটেলে ফিরেই ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু; চোখ বুজতে না বুজতেই স্যারের তাগাদা, টেকনাফে যাত্রা শুরু করতে হবে। রাত ৩টায় গাড়িতে চেপে বসলাম। হরতালের ঝামেলা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। সকালে পৌঁছে নাস্তা করেই, সমুদ্র ভ্রমণের নিমিত্ত জাহাজে চড়ে বসা। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম নীলাভ সেন্ট মার্টিনে। রিসোর্টে গিয়ে স্বস্তি অবারিত, যেন জগতের সব জনাকীর্ণতা ছেড়ে সবাই মুক্ত। দুপুরের পর সমুদ্রের গর্জন শুনতে বের হয়ে গেলাম দল বেঁধে। পানির ভেতর প্রবাল, যেন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য। কোন দল গান গাচ্ছে, কোন দল যেন পানির সাথে মনের কথা কইছে- সারা সন্ধ্যা এই ছুটোছুটি। পূর্ণিমা রাতের চাঁদনী আলোয় স্যার ও তার স্ত্রী (আমাদের আপু) কে মধ্যমণি করে গানের আসর। কখন যে রাত ২টা, টেরই পেলাম না। স্যার সবাইকে জোর করে ঘুমাতে পাঠালেন। সকালে উঠেই নতুন স্বপ্নিল গন্তব্য, ছেঁড়াদ্বীপ। ট্রলারে করে এসে গেলাম, এখানে যা দেখি, তাই ভালো লাগে। প্রবাল ভর্তি নীল পানিতে কেউ লাফ দিয়ে পড়ে, তাকে আবার টেনে উঠানো হয়। এখানের ডাবের পানিতে কী জাদু, খেলেই রোদ-তৃষ্ণা নিবারণ হয়ে যায়। যাই হোক, সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন ফিরে যাওয়া। রাতে বার-বি-কিউ পার্টি, নাচ, গান, কৌতুকে মাতোয়ারা সেন্ট মার্টিন। পরবর্তী সকালে ব্যস্ত সবাই শুঁটকির খোঁজে, সমুদ্র বিলাস হোটেলের সামনে থেকে আমাদের অনেকেই শুঁটকি কিনল। দুপুরের খাবার শেষ করেই কক্সবাজার হয়ে ঢাকা ফেরার তাড়া, এইবার মন খারাপের লক্ষণ। কিন্তু, কি করা! বিকেলে পথে একটা রেস্টুরেন্টে যাত্রা বিরতি করে সবার ভ্রমণকালীন পারফরমেন্সের ভিত্তিতে বন্ধু তাজের লেখা একগুচ্ছ বই উপহার দেয়া হল। পরদিন দুপুর তিনটায় আমরা ইট কাঠের নগরী ঢাকায় ফিরে এলাম, নামলাম সেই আইন অনুষদের প্রাঙ্গণে।