মে ধা বী র ক থা

‘গবেষক হতে চাই’

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৩২
গ্রোথ প্রোমোটার হিসেবে ব্যবহূত ক্ষতিকারক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে উত্পাদিত মুরগীর ডিম ও মাংস খেয়ে বিশ্বের অনেক দেশে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারানোসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এন্টিবায়োটিক মানুষ , পশু স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতের জন্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এভাবে ক্রমশ বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই মানবজাতি জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রাণরক্ষার যুদ্ধে পরাস্ত হবে। কিন্তু এন্টিবায়োটিকের বদলে প্রাকৃতিক মহাঔষধ হিসেবে পরিচিত কালিজিরা মিশ্রিত পোল্ট্রি খাবারে প্রাকৃতিক উপায়ে ডিম ও মাংসের কোলেস্টেরল কমিয়ে আনা সম্ভব এবং পাশাপাশি এন্টিবায়োটিকের নাশক ছোবল থেকে মানব স্বাস্থ্য ও পরিশেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানালেন একজন তরুূণ গবেষক ও দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী মুখ নূরে আলম সিদ্দিকী। তার গবেষণায় দেখা গেছে, এন্টিবায়োটিকের বদলে কালিজিরা প্রয়োগে মুরগীর ডিমে প্রায় শতকরা ৪৩ ভাগ কোলেস্টেরল কমিয়ে আনা সম্ভব এবং কালিজিরা মিশ্রিত পোল্ট্রি খাবারে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক এক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার ঘটায় যা মুরগীর পাকস্থলীতে দ্রুত পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়াও কালিজিরা মিশ্রিত পোল্ট্রি খাবারে ব্রয়লার মুরগীর দেহের ওজন, বৃদ্ধির হার সবকিছুই ত্বরান্বিত হয় যা বাজারের মুরগীর চেয়ে অনেক পরিমাণ বেশি। ব্রয়লার মুরগীর ব্লাড সিরামের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড আকস্মিকভাবে হ্রাস পায় এবং এইচডিএল নামক এক ধরনের উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই কালিজিরা প্রয়োগকৃত ব্রয়লার মুরগীর মাংস অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আফজাল হোসেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. তোফাজ্জল ইসলামের তত্ত্বাবধানে উক্ত গবেষণা ও মাস্টার্স থিসিস সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম এবং বাংলাদেশের বৃটিশ কাউন্সিল-এর যৌথ গবেষণা ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তা’ বিষয়ক গবেষণার একজন গবেষণা সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশনার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার গবেষণা প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স-এও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়াও তার রচিত একটি গবেষণামূলক বই জার্মানীর ল্যাপ-ল্যামবার্ট প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, নূরে আলম সিদ্দিকী স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক “ এনএসআইসিটি ফেলোশিপ -২০১১” লাভ করেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর থেকে এগ্রিকালচার-এ স্নাতক ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র মো. নূরে আলম সিদ্দিকী সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৭০ এবং ৪.০০ (৪ এর মধ্যে) পেয়ে মাইলফলক রচনা করে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনিই হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর-এর একমাত্র ছাত্র যিনি কিনা দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কৃষিক্ষেত্রে সেন্টার অব এক্রিলেন্স হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।