শিক্ষক অডিটোরিয়মে ঢুকেই দেখি সংগীতের মহড়া চলছে। স্যারের কণ্ঠে সুরের জোয়ার, ‘নোঙর তোলো তোলো সময় যে হলো হলো...’। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সবাই স্যারের সংগীত রাজ্যে বিচরণ করছেন। সবার মধ্যমণি স্যার। পরনে গোলাপি রংয়ের ফুলেল শার্ট। আমাকে দেখে চোখে ইশ্ারা করে বসতে বললেন। পরের দিন ছিল মহান স্বাধীনতা দিবস। স্যার নিজের শিষ্যদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন শেষবারের মত। কখনও বকাঝকা আবার কখনও মাথায় হাত বুলিয়ে নিজের অর্জিত সবটুকু সুর সকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন। কি নেই স্যারের ঝুলিতে। অধ্যাপনার পাশাপাশি গান, কবিতা, নাটক রচনা ও পরিচালনা, আবৃত্তি, মঞ্চাভিনয় এমনিকে সিটিভিতে গত দশ বছর ধরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই স্যারকে এককথায় অলরাউন্ডারের দুর্লভ স্বীকৃতি দিয়েছেন। জয় প্রকাশ দে স্যার এর কথা বলছিলাম এতক্ষণ ধরে। বর্তমানে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। শৈশবকাল থেকে ডাক্তার হওয়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল। কিন্তু শিক্ষকতার রক্ত যে স্যারের বংশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত। আর সে কারণে বাবা ও মায়ের পথ অনুসরণ করলেন শেষ পর্যন্ত।
