চকলেটের প্রতি লোভ নেই এমন মানুষ এমনিতেই গোটা দুনিয়াতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে বয়স যাদের একটু কম তাদের জন্য চকলেটের লোভে ছোটখাটো চুরি করা বা কাউকে না বলে ফ্রিজ অথবা দোকানের শেলফ থেকে চকলেট সরিয়ে নেওয়াও নতুন কিছু নয়। তবে বয়সকালে যারা মামুলি এসব চুরি ছেড়ে বড় ধরনের চুরির সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেন, তুচ্ছ চকলেটের প্রতি তাদের লোভ না থাকারই কথা। তবে প্রথাগত এই বিশ্বাসকে পাল্টে দিয়েই এবার বড় ধরনের কোনো অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে একদল চোর লুটে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ চকলেট। আর অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছে জার্মানির ছোট্ট শহর ব্যাড হার্সফেল্ডে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের চুরি বা লুটের ক্ষেত্রে নগদ টাকাই চোরদের প্রধান পছন্দ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে একদল চোর ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আর এরই ফলশ্রুতিতে সর্বশেষ সাপ্তাহিক ছুটির সময়টিতে অজানা সংখ্যক এই চোরের দল হাতিয়ে নেয় ৫ মেট্রিক টনেরও বেশি নিউটেলা চকলেট হ্যাজেলনাট স্প্রেড। মূলত পাউরুটি জাতীয় খাবারের সাথে মাখিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় এই হ্যাজেলনাট স্প্রেড যা চোরেদের দল হাতিয়ে নেয় মধ্য জার্মানির এই শহরে পার্ক করে রাখা একটি বড় ট্রেইলার থেকে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী লুট হওয়া এই চকোলেটের মূল্যমান প্রায় ১৬,০০০ ইউরো বা ২০,৭১০ ডলারের মতো বলে জানিয়েছেন ট্রেইলারটির চালক। তবে যে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে সবচেয়ে অবাক করেছে তাহলো চুরির ক্ষেত্রে যেখানে নগদ টাকা চুরির পেছনে নিজেদের মেধা(!) ব্যয় করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ সেখানে এই বিপুল পরিমাণ মালামাল সরিয়ে নেওয়া যেমন বিপজ্জনক তেমনি এগুলো বিক্রি করে অর্থ তুলে আনাও প্রায় অসম্ভব। তা ছাড়া খাওয়ার জন্যও এই পরিমাণের চকলেট বাড়াবাড়ি রকমের বেশি এবং কয়েকজন মিলে এই পরিমাণ চকলেট হ্যাজেলনাট খেতে চাইলে পেরিয়ে যাবে কয়েক যুগ সময়। মজার বিষয় হলো, সবাইকে অবাক করে দেওয়া এই ধরনের চুরি জার্মানির এই শহরটিতে এবারই প্রথম নয়। বরং কিছুদিন আগেও একইভাবে বিপুল পরিমাণ এনার্জি ড্রিংক হাতিয়ে নিয়েছিল অজানা এই চোরের দল।
