রাজশাহীর তানোরে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজে পাঁচ শতাধিক সেচযন্ত্র বিকল হয়ে পড়েছে। সেচের অভাবে কৃষকের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ দুই শতাধিক কৃষক সোমবার বিকালে স্থানীয় বিদ্যুত্ অফিস ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের প্রায় আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখে।
কৃষক ও অপারেটরদের অভিযোগ, ঘন ঘন লোডশেডিং ছাড়াও লো-ভোল্টেজ সেচের ক্ষেত্রে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তিন সপ্তাহ ধরে প্রাকৃতিক সমস্যা না থাকলেও অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। সেচ নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে নলকূপের অপারেটরদের বাকবিতণ্ডা হাতাহাতি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমাশো গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, তিন সপ্তাহের লো-ভোল্টেজে তার দু’টিসহ এলাকার প্রায় পাঁচশ’ গভীর-অগভীর নলকূপের পাম্প পুড়ে গেছে। ফলে সেচের আওতাভুক্ত কয়েক হাজার বিঘা বোরোর ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়েছে। বিদ্যুত্ সরবরাহের উন্নতি না হলে কৃষকরা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। কৃষ্ণপুরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘাটতি সত্ত্বেও তানোর থেকে পল্লী বিদ্যুত্ গোপনে শিবগঞ্জের কানসাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তানোরে বিদ্যুত্ ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলাকার প্রায় পাঁচশ’ গভীর-অগভীর পাম্প দিনে এমনকি রাতেও বন্ধ থাকছে। মধ্যরাতে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হলেও ভোরেই চলে যাচ্ছে। অপারেটররা সামান্য সময়ে সমস্ত জমিতে পানি দিতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে তানোর পিডিবি’র এরিয়া অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী ইখতেখার আহম্মেদ বলেন, লো-ভোল্টেজ কন্ট্রোলরুমের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে হচ্ছে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিদ্যুত্ অফিস ঘেরাও করে কৃষকের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি কৃষকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। তানোর পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ওবাইদুল্লা-আল-মাসুদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তানোরের বিদ্যুত্ কানসাটে পাঠানো হচ্ছে। দিনে বিদ্যুত্ সরবরাহ কম থাকে বলে লোডশেডিং হচ্ছে। রাতে লোডশেডিং হচ্ছে না। ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৭ মেগাওয়াট দিয়ে চালানো হচ্ছে।
