সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সচেষ্ট সরকার :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩২
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজি ১ এবং এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটিতে এর অর্ন্তভুক্তি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নাম বদলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু করা হয়েছে। সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্তি বর্তমান সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন নীতিরই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন প্র্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে সচেষ্ট। বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে বিমান বাহিনীর কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নতুন মাত্রা লাভ করবে। বিমান বাহিনীর প্রাণকেন্দ্র এ ঘাঁটি এতদিন অপ্রতুল অবকাঠামোর মাধ্যমে এবং অন্যান্য ঘাঁটি থেকে জনবল নিয়ে দেশের প্রতিরক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করেছে। নতুন এই ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ফলে অন্যান্য ঘাঁটির উপর চাপ কমবে। নতুন যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিচালন ক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যতুটুকু সহায়তা দেয়া সম্ভব, সরকার এ ব্যাপারে কোন কার্পণ্য করবে না। এটাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সচেষ্ট বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নত যুদ্ধকৌশল, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে সময়োপযোগী ও আধুনিক যুদ্ধের বিভিন্ন উপকরণ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বারের মতো একটি উড্ডয়ন ঘাঁটি স্থাপন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ হিসেবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২৯, সুপরিসর সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। ইতিমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনে বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে স্থাপন করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’। এটাও বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান চালনা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও পবিত্র দায়িত্ব। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত আধুনিক এই যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে দেশ ও জাতির জন্য গৌরব ও প্রশংসা বয়ে আনছে। বিমান বাহিনীতে নতুন যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে এ বাহিনী আগামীতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরও সক্ষম বাহিনী হিসাবে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আকাশ সীমা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সরকার কক্সবাজারে একটি নতুন বিমান ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ঘাঁটিতে একটি নতুন এয়ার ডিফেন্স রাডার স্থাপন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সকাল ১০টায় বিমান ঘাঁটিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারি ও বঙ্গবন্ধু ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার কমোডর এহসানুল গনি চৌধুরী। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সেনা ও নৌ বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিব, চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যাটাশেসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নতুন বিমানের কসরত দেখানো হয়। সারি বেঁধে জাতীয় পতাকা নিয়ে উড়ে যায় হেলিকপ্টার। যুদ্ধ বিমান আবার রঙিন ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে খুব নীচে দিয়ে উড়ে যায়। শত্রুকে ধোঁকা দিয়ে নিক্ষেপ করে আগুনের গোলা। নতুন বিমানগুলো দ্রুতগতিতে আকাশে চক্কর দিতে দিতে উড়ে যায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নতুন বিমান ও হেলিকপ্টার দেখেন। এ উপলক্ষে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. শাহরুল হুদা।