এডিবির আউটলুক প্রকাশ

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫
দুই বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৭ শতাংশের প্রবৃদ্ধি ২০১২ সালে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে গেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রজ্ঞাপণ অনুযায়ী ২০১৩ সাল শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরো কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যাবে। অন্যদিকে ২০১১ ও ২০১২ বছরে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ জনসংখ্যার দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি ২০১১ ও ২০১২ সাল নাগাদ ৬ দশমিক ২ ও ৫ শতাংশ থাকলেও ২০১৩ ও ২০১৪ সাল নাগাদ তা ৬ ও সাড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছবে। অন্যদিকে কমবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালের প্রবৃদ্ধি। এডিবির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে ভুটান, ভারত, শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। ভারত শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি হবে যাথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। গতকাল ম্যানিলা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের ‘এশীয় ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৩’ প্রকাশ করে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একযোগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, এবং দুর্বল আর্থিক খাত ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফলে প্রবৃদ্ধির এ নিম্নগতি হবে। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার রফতানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি হ্রাসের অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সমপ্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থমন্ত্রীর হিসেবে এ হার গত বছরের মতো ৬ দশমিক ৪ শতাংশের আশে পাশে থাকবে। কিন্তু আরেক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে নামবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে প্রজ্ঞাপণ করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে এডিবিও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানালো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিলো গড়ে ৫ শতাংশ। ২০১৩ সাল নাগাদ এ হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। এবং ২০১৪ সাল নাগাদ এ হার ৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকার সংকটের পরেও এশিয়ার জনগণের ভোগ ব্যায় বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে ২০১৩ ও আগামী ২০১৪ সালের এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি আরো বেগবান হবে। ২০১৩ সাল নাগাদ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সাল নাগাদ ৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। যা ২০১২ সালে ছিলো মাত্র ৬ দশকি ১ শতাংশ। তবে এ অর্জনের জন্য দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরে এশিয়ার মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়বে বলে আশংকা করা হয়েছে। ২০০৭ সালে এশিয়ার দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ছিলো ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৪ শতাংশ এবং ২০১৪ সাল নাগাদ এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও এ অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, কিন্তু প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে হলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং নীবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেছে এডিবি। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক ভালো করবে। ২০১৩ সাল নাগাদ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছবে। এর তালিকায় রয়েছে চীন, হংকং, কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিসহ রফতানি বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সাল নাগাদ হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার উত্থানে নেতৃত্ব দেবে ভারত। প্রাক্কলন অনুযায়ী ৬ ও সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। তবে ভারতের বর্তমান কাঠামো এবং বর্তমান নীতির ফলে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এডিবি আরো উল্লেখ করেছে, বার্ষিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে এশিয়ার দেশগুলো ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্ব জিডিপি’র (মোট জাতীয় উত্পাদন) ৪৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে।