দা, ছুরি, শাবল, রড, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও আঘাত করে আমিনবাজারের ৬ ছাত্রকে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে বড়দেশী গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করে। মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকার সাধারণ বাসিন্দার ছদ্মবেশে ঐ ছয় ছাত্রকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আদালতে আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, কতটা নৃশংসভাবে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পরও ঘাতকরা লাশের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে ৬০ জনকে আসামি করে এ মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। এই ৬০ জনের মধ্যে ১৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের কাছে রজ্জব আলী, আসলাম মিয়া, আবু সাঈদ, আনোয়ার হোসেনসহ ১৬ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মধ্যে বড়দেশী গ্রামের আবু সাঈদ ওরফে সাঈদ মেম্বারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে আনুমানিক রাত ১টার সময় কয়েকজন মহিলা তার দরজায় ধাক্কা দেয়। তিনি জেগে শুনতে পান মসজিদে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করছে। তিনি তার বাড়ির ছাদে উঠে দেখেন অনেক মানুষ কেবলার চরের দিকে দৌড়াচ্ছে। তিনি ছাদ থেকে নেমে একটা শাবল নিয়ে কেবলার চরের দিকে দৌড় দেন। সেখানে গিয়ে দেখেন লোকজন লাঠি, বাঁশ ও রড দিয়ে ডাকাতদের মারছে। তার পরিচিত সাত্তার একটি লোহার রড দিয়ে এক ছেলের (তিনি ধারণা করেছিলেন ডাকাত) মাথায় বাড়ি দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ঐ ছেলে পড়ে মারা যায়। এ সময় তিনি দেখেন বড়দেশী গ্রামের মালেক, নিহর, হামিদ, রশিদ, শাহীন, মনির, মীর হোসেন, রানা, ফরিদ, আমিন, রজ্জব, রাজীব, আসলাম, আনোয়ার, মোবারক, সেলিম, বরিশালের মজিবর, ওয়াসিম, শামসু, রেফু, লোটন, টুটুল, মোকলেস, শাহজাহান, আফজাল, তোতন, হানিফ, আলমগীর, নূরে আলম, খলিল ড্রাইভারসহ শতাধিক ব্যক্তি লাঠি, দা, টেঁটা, শাবল, ছুরি দিয়ে ডাকাতদের এলোপাতাড়ি আঘাত করছে। তিনি তার হাতে থাকা শাবল দিয়ে একজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। অনেকের আঘাতে ঐ ছেলেও মারা যায়। ছেলেদের (ডাকাত) মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এর কিছু সময় পর পুলিশ আসে। ঐ সময় বেঁচে যাওয়া এক ছেলেকে পুলিশ উদ্ধার করে। ছয় ডাকাত মারা যাওয়ার পর এলাকার লোকজন উল্লাস প্রকাশ করে। পুলিশ ঐ ৬ জনের লাশ ‘ডাকাত’ হিসাবে চিহ্নিত করে নিয়ে যায়। ঐ দিন রাতের পর সকালে টেলিভিশনে ‘আমিনবাজারে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা’ করার খবর দেখতে পেয়ে তার মন খারাপ হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মালেক বাদী হয়ে সাভার থানায় ঐ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে ‘ডাকাত’ চিহ্নিত করে ধানমন্ডির ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম (১৭), মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১), একই কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান (২০) ও উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা প্রথমবর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) এবং মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনির (২০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
