নতুন পদ তৈরি না হওয়া, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মসহ নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে। কিন্তু এ বিষয় সমাধানসহ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোন দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষাক্যাডারের কর্মকর্তাদের (শিক্ষক) মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আর কর্মকর্তাদের কোন দাবি পূরণ না হওয়ায় দায়ী করা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের।
সাধারণ শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, সমিতির গুটি কয়েক নেতার স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত এ সমিতি। সমিতির নেতারা সাধারণ শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল নন। এ কারণে শিক্ষকদের দাবি পূরণ হচ্ছে না। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প শক্তি তৈরি করতে চান সাধারণ শিক্ষকরা। প্রতি ব্যাচ থেকে নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এর নাম দেয়া হচ্ছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা আন্তঃব্যাচ সমন্বয় কমিটি। আগামী ১৭ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ কমিটি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দাবি পূরণে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বর্তমান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি মাসুম এ রব্বানী রাজধানীর ঢাকা কলেজে, অপর সহ-সভাপতি দিলারা হাফিজ তিতুমীর কলেজে, সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ মো: আজমতগীর ঢাকা কলেজে, যুগ্ম সম্পাদক বশির উল্লাহ মাউশির সহকারি পরিচালক পদে, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ঢাকা কলেজে রয়েছেন। শুধু তাই নয় সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীও রাজধানীর নামি দামি কলেজে চাকরি করছেন। এছাড়া কমিটির নেতাদের আত্মীয়স্বজনরাও রয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজে বা মাউশির গুরুত্বপূর্ণ পদে।
সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক নেতা বলেন, আমিও সমিতির আচরণে ক্ষুদ্ধ। সমিতির শীর্ষ নেতারা সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এই সমিতি অতীতের মতো শিক্ষা ক্যাডারের কোন দাবিই পূরণ করতে পারেনি। ঘুরে ফিরে কয়েকজনই নেতা হিসাবে থাকছেন। অন্যদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। আর দাবিও পূরণ হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি শিক্ষা ক্যাডারের চৌদ্দ হাজার সদস্যের প্রাণের সংগঠন। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এ সমিতির আত্মকাশ হয় ১৯৮৭ সালের ৮ জুন। সবার দাবি পূরণে কাজ করার কথা থাকলেও সমিতির নেতাদের সুবিধা আদায়েই যেন এ সমিতি কাজ করছে। এ কারণে এ সমিতি সাধারণ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছে। শিক্ষা ভবনের এক কর্মকর্তা বলেন, সমিতির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাকে না মেনে বিরোধিতা করায় ইতিমধ্যে শিক্ষা ভবনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ৫ জনকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকজনকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেছেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নিয়মের মধ্যে থেকেই তাদের বদলি করা হয়েছে।
বিকল্প শক্তির খোঁজে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা: বর্তমান সমিতির কর্মকাণ্ডে ক্ষুদ্ধ হয়ে বিকল্প শক্তির উেস্যর খোঁজ করছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। ১৬‘শ বিসিএস ফোরামের মহাসচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল বাশার ইত্তেফাককে বলেন, হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি সমিতির পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে রেখেছে। এরা শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি। তিনি বলেন, ক্যাডারের সদস্যদের মধ্য ঐক্য ধরে রেখে দাবি আদায়ে সোচ্চার হবার জন্য সবগুলো ব্যাচের সমন্বয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা আন্তঃব্যাচ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটি ক্যাডারের মূল সমিতিকে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত তারা এই উদ্যোগকে ভয় পাচ্ছেন। অন্য একটি ব্যাচের নেতা এনামুল হক বলেন, বিষয় ভিত্তিক নয় আমরা ব্যাচ ভিত্তিক পদোন্নতি চাই। প্রতিটি ব্যাচের সদস্যদের দাবি পূরণে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ফোরামের কর্মকর্তা বলেন, কমিটি গঠনের উদ্যোগ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে। আমরা প্রতি ব্যাচ থেকে নেতা তৈরি করবো। এই নেতারাই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃত্ব দেবেন।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ মোঃ আজমতগীর বলেন, এই সমিতি দায়িত্ব নিয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সব দাবি পূরণে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোন ফোরাম বা ব্যক্তিগতভাবে কারো কোন দাবির বিয়ষ থাকে তা সমিতির সভায় আলোচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে একজনকে ডিঙিয়ে আরেকজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এমন হলে তার বিরুদ্ধে সমিতি প্রতিবাদ করবে। সমিতির এই নেতা শিক্ষকদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
