বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫
বাগেরহাটে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে কালু শেখ (৩০) নামে এক যুবক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ সময় প্রতিপক্ষের প্রহারে হাসিব শিকদার (২৮) নামে অপর এক যুবক আহত হন। রাত দশটার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে শহরের নাগের বাজার এলাকায় বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানের বাসভবনে দলীয় প্রতিপক্ষ হামলা চালালে এই সংঘর্ষ ঘটে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান হাবিবুর রহমানের সাথে পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপন মিনা ও ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাকি তালুকদারের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের একটি দরপত্র দাখিল করাকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নিহত কালু শেখ বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামের বাবুল শেখের পুত্র। আশংকাজনক অবস্থায় খুলনা থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত হাসিবের ডান হাত ভেঙে গেছে। তাকে চিকিত্সা দিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়েছে। নিহতের সমর্থকরা দাবি করেছে, নিহত কালু শেখ ডেমা ইউনিয়ন যুবলীগের ১ নং ওয়ার্ড কমিটির সদস্য। বাগেরহাট সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনি মল্লিক বলেন, ‘কালু আমাদের সংগঠনের ছেলে। তবে তার পদ সম্পর্কে খোঁজ না নিয়ে বলতে পারছি না।’ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন উভয়পক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগের একটি টেন্ডার দাখিল করা নিয়ে শিপন-বাকি পক্ষের লিটু নামের এক যুবককে পৌর মেয়রের ভাতিজা খান আবু বক্কর সিদ্দিক সোমবার দুপুরে মারধর করেন। এর জের ধরে প্রতিপক্ষরা শহরের মনিকা সিনেমা হল এলাকায় খান আবু বক্করের মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সোমবার রাতে মেয়রের ভাগ্নে হাসিব শিকদার প্রতিপক্ষের সমর্থক ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অলোক চক্রবর্তীর বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মাকে গালিগালাজ করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিপন-বাকি পক্ষের সমর্থকরা রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাগের বাজার বালিয়ার খালের পাশে ফেলে হাসিবকে মারধর করেন এবং পৌর মেয়রের বাড়িতে হামলা করতে যান। এ সময় পৌর মেয়রের বাড়ির ছাদ থেকে হামলাকারীদের উপর গুলি ছোঁড়া হয়। এতে কালু মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। হাসিবকে পৌর কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সভাপতি শিপন মিনা মারধর করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে পৌর মেয়রের কাছে তার ভাগ্নে হাসিবের বিরুদ্ধে নালিশ করতে তার বাড়ির কাছে গিয়েছিলাম। এ সময় মেয়রের বাড়ির সামনে এবং ছাদ থেকে তাদের উপর সাত-আট রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। তাদের গুলি কালুর মাথায় বিদ্ধ হয়। তিনি মেয়রের বাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেছেন, শিপন মিনা ও মাসুদ সরদারের নেতৃত্বে চল্লিশ-পঞ্চাশ জন সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দশ-বারো রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে এবং বাড়ির নীচতলার একটি কক্ষ ভাংচুর করে। এ সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। হামলায় বাড়ির নারী ও শিশুরা আতংকিত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মেয়র দাবি করেন, হামলাকারীরাই একতরফা গুলি ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করেছিলো। তিনি বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেন। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।