১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। এজন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সন ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বিশ্বের সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য থেকে একথা জানা গেছে। ওই তারবার্তার বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সময়টা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দুই বছরের মধ্যে হবে। প্রেসিডেন্ট নিক্সন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক ময়নিহানের মাধ্যমে ইন্ধিরা গান্ধীর কাছে লেখা চিঠিতে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নিক্সন লিখেছিলেন, বর্তমানের নতুন পরিস্থিতিতে আমরা আবার নতুন করে সম্পর্ক শুরু করতে পারি যে সম্পর্কে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝিতে ব্যাঘাত ঘটেছিল। উল্লেখ্য, ওই সময় বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। চিঠিতে গান্ধীকে এই বলে আশ্বস্ত করা হয় যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক সম্পর্ক রয়েছে তার ফলে দিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ওয়াশিংটনে পাঠানো ফিরতি তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত ময়নিহান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানে কোনো সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করা হবে না। উড়োজাহাজ, ট্যাঙ্ক, কামানও না। যদিও একমাত্র ১৯৭০ সালে এই নীতির সামান্য বিচ্যুতি ঘটেছিল। এরপরই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই যে, এই উপমহাদেশে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। কারণ আমরা মনে করি বিশ্বে প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আমাদেরই এই ধরনের একটা নীতি রয়েছে। ওই সময় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ল-৪৮০ এর অধীনে ভারতকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
কংগ্রেস দল মৌচাকের মতো:১৯৭৩ সালে এক মার্কিন কূটনীতিক ভারতে তাদের নিজস্ব অফিসে পাঠানো তারবার্তায় উল্লেখ করেন, ভারতের কংগ্রেসের বিরোধী এক নেতা একান্ত বৈঠকে তাকে বলেন, কংগ্রেস দল যেন ‘একটি মৌচাক যেখানে রাণী হচ্ছেন মিসেস গান্ধী। তিনি যখন চলে যাবেন তখন ছোট মৌমাছিরা চলে যাবে এবং মৌচাক ভেঙ্গে যাবে’। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধীর মতোই তার বাবা রাজীব গান্ধী রাজনীতিতে এসেছিলেন। সত্তরের দশকে ভারত কর্তৃক সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাব-স্ক্যান্ডিয়ার কাছ থেকে একটি যুদ্ধ বিমান ক্রয়ে রাজীব গান্ধী প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অর্থ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইন্ধিরা গান্ধী ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি রাহুল গান্ধী বলেন, রাজনীতিতে আসার তার কোনো আগ্রহ ছিল না। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করার জন্যই হয়তো তার রাজনীতিতে আসা।
