ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। সেই গ্রামের এক মেয়ে বানি। গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারের মতো বানির মায়েরও স্বপ্ন মেয়েকে প্রবাসী পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেবেন। বিয়ের পর মেয়ে সুখে থাকবে, স্বচ্ছল জীবন যাপন করবে, বিদেশ থেকে কাড়ি কাড়ি অর্থ উপার্জন করে পাঠাবে মেয়ের স্বামী, তাতে নিজেদের পরিবারের আর্থিক দৈন্যতাও ঘুচবে—এমন স্বপ্নে বিভোর বানির মা। অথচ একই গ্রামে আশপাশে অনেক পরিবারেই মেয়েদের এর আগে বিদেশে থাকা পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হলেও তাদের স্বপ্নপূরণ হয়নি। বিয়ের পর নবপরিণীতা স্ত্রীকে দেশে বাড়িতে রেখে যাওয়া প্রবাসী স্বামীরা দীর্ঘদিনেও ফিরে না আসায় হতাশা, বঞ্চনা নিয়ে বছরের পর বছর সময় পার করছে অনেক মেয়ে। যাদের মধ্যে যৌবন পেরোনো মাঝবয়সী নারীও আছেন। প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগও নেই তাদের অনেকের। অমৃতসরের গ্রামে গ্রামে অনেক পরিবারেই একই চিত্র দেখা যায়। বাস্তবে ঘটা তেমন অনেক ঘটনার উপর ভিত্তি করে ‘বানি :ইশক দা কালমা’ সিরিয়ালের গল্প সাজানো হয়েছে। শুরুতে সিরিয়ালটির নাম ‘গুরবানি’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ধর্মীয় আবেগের কারণে প্রতিবাদ জানালে ‘গুরবানি’র বদলে ‘বানি :ইশক দা কালমা’ রাখা হয়েছে।
বিদেশে চাকরি বা ব্যবসায় নিয়োজিত পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে পাঞ্জাবের গ্রামাঞ্চলে অনেক মা-বাবার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। বানি গ্রামের সহজ সরল চমত্কার একটি মেয়ে। যৌবনে পা রাখার পর থেকে সে স্বপ্ন দেখছে একদিন তার বিয়ে হবে, স্বামীর সান্নিধ্যে তার মন ভরে যাবে, সুখের সংসার হবে তাদের। বানির ইচ্ছে না থাকলেও তার মায়ের প্রচণ্ড ইচ্ছে প্রবাসী কোনো পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন। মেয়েকে তেমন একজন পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে পারলে নিজের অস্বচ্ছল অবস্থা কাটিয়ে ওঠা যাবে তার সাহায্য-সহযোগিতায়—তেমন পরিকল্পনা বানির মায়ের। একসময় এই গ্রামের আরও অনেক বাবা-মা একই স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রবাসী পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিলেও তাদের স্বপ্নপূরণ হয়নি। বরং বিয়ের পর আবার বিদেশে চলে যাওয়া স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কহীন বিবাহিতা মেয়েদের বঞ্চনাময় জীবন তাদের হূদয়ে সব সময় বেদনা আর অপরাধবোধ জাগিয়ে রেখেছে। গ্রামের আরও অনেক পরিবারের মেয়েদের তেমনি করুণ পরিণতি দেখেও বানির মা মেয়ের সঙ্গে প্রবাসী পাত্রের বিয়ে ঠিক করেন। নিজের ইচ্ছে না থাকলেও পারিবারিক চাপে বানি রাজি হয়। একসময় বিয়ে হয়ে যায় বানির তেমন এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী যথারীতি বিদেশে কর্মস্থলে চলে যায়। এরপর থেকে বানির প্রতীক্ষার পালা শুরু হয়—কবে তার কাছে ফিরে আসবে প্রিয়তম স্বামী। পাঞ্জাবের গ্রামীণ সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে ‘বানি ইশক দা কালমা’ সিরিয়ালে। অশিক্ষা, কুসংস্কার, সামাজিক বঞ্চনার শিকার পাহাড়ি গ্রামীণ নারীর বাস্তব জীবনগাথা দর্শকদের খুব সহজেই স্পর্শ করছে। গ্রামীণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের গল্প চমত্কারভাবে চিত্রিত হয়েছে এখানে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে বানির ভূমিকায় রূপদান করছেন নতুন মুখ শেফালী শর্মা। অমৃতসরের মেয়ে শেফালীর অভিনয়ে অভিষেক হয়েছে এই সিরিয়ালের মাধ্যমে। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন নেহা বাগ্গা, আধবিক মহাজন, রীতা ভাদুড়ি, নবনী পরিহার প্রমুখ। ‘বানি :ইশক দা কালমা’ সিরিয়ালটি কালারাস টিভি চ্যানেলে প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখানো হয়।
