দ্য ব্রাদারহুড প্রজেক্ট কোনো ব্যান্ড নয়, একটা প্রজেক্ট। প্রথমে এই কথাটাই জানালেন তারা। ব্যাখ্যাটাও দিলেন একই সাথে, ‘আসলে ব্রাদারহুড প্রজেক্ট একটি উন্মুক্ত চেতনারই প্রতিফলন। এটি একটি ওপেন প্লাটফর্ম। এখানে কোনো দলীয় সীমাবদ্ধতা নেই। এ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে যে কেউ গান গাইতে পারবেন। এ বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন হলেও বাইরের দেশে এ রকম চল রয়েছে। এ ধরনের প্লাটফর্মে একাধিক শিল্পী একসাথে কাজ করে। স্বাতন্ত্র বজায় রেখে দলীয়ভাবে কাজ করাটাই এর মূল উদ্দেশ্য। সাধারণত দেখা যায়, একটি ব্যান্ড গড়ে ওঠে একাধিক শিল্পী নিয়ে। এখানে দলীয় স্বার্থের কারণেই কোনো শিল্পীর একক কারিয়ার গড়ে ওঠার সুযোগ নেই। ফলে কিছুটা হলেও গণ্ডীবদ্ধতায় আটকে যেতে হয়। আবার অন্যদিকে যেসব শিল্পী একক ক্যারিয়ার রয়েছে। তাদেরকেও গানের কোনো দলীয় মাত্রায় পাওয়া যায় না। এ রকম একটি বিপরীতমুখী অবস্থার সমন্বয় ঘটাতেই আসলে এ ধরনের বিষয়ের অবতারণা। যা বিশ্বের অনেক দেশেই প্রচলিত। আমরাও ঠিক সেই ভাবনা থেকেই দ্য ব্রাদার হুড প্রজেক্ট শুরু করেছি।’ এই প্রজেক্টের নাম করণের মধ্যেও ছিল এই চিন্তারই প্রতিচ্ছবি। ভ্রাতৃত্ববোধের ভেতর দিয়ে সংগীতের শীর্ষ ছোঁয়ার বাসনাতেই তাদের প্লাটফর্মটির নাম হয়েছে দ্য ব্রাদার হুড।
এই প্রজেক্টের এই প্রজেক্ট ভাবনার উেস দাঁড়িয়ে আছেন দুজন—জয় ও পারভেজ। ২০০৩ সালে তাদের প্রথম পরিচয়। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ছিলেন। দুজনই গান গাইতেন। তাই সম্পর্কের ভিত শক্ত হতে খুববেশি দিন সময় নেয়নি। একসাথে পথ হেঁটেছেন ও গান গেয়েছেন। অনেকদিন ধরে তারা চাইছিলেন এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে স্বকীয়তা বজায় রেখেও একসাথে কাজ করা সম্ভব হবে। আর এ চিন্তারই ফলাফল দ্য ব্রাদারহুড প্রজেক্ট। এ প্রজেক্টের কারণেই আজ দুজন নিজ নিজ গানের ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একসঙ্গে কাজ করারও সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানালেন তারা। এই প্রজেক্টের প্রথম ফলটি এসেছে গত বছর। ১২.১২.১২-এর ম্যাজিকে প্রকাশিত হয়েছে তাদের প্রথম অ্যালবাম। ‘দ্য ব্রাদারহুড প্রজেক্ট’ নামেই অ্যালবামটি বাজারে আসে এবং শ্রোতাদের মুগ্ধতা আদায় করে নেয়। এর কারণ জানা যায়, দ্য ব্রাদার হুড প্রজেক্টের কাছেই। তারা বলেন, ‘এ প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো একাধিক শিল্পীর এক সাথে কাজ করার সুযোগ। আর এটাই সুবিধা করে দেয় শ্রোতাদের মনোযোগ টানতে। শ্রোতারা নতুনত্ব ভালোবাসে। আর ওপেন ফ্লাটফর্ম হওয়াতে শিল্পীদের সমন্বয়ে নতুন কিছু করাটাও সহজ হয়। এ কারণেই প্রথম অ্যালবামটিও শ্রোতানুকূল্য পেয়েছে। তাই বলা যায় আমাদের প্রজেক্ট প্রাথমিকভাবে সফল।’ এই সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজ শুরু করতে। শিগরিগরই শ্রোতাদের হাতে এ অ্যালবামটি তুলে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারা। তারা আরও জানিয়েছেন নির্মাণাধীন অ্যালবামে তাদের সাথে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক দেব প্রসাদ দা। ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গান সংগ্রহ করছেন তারা। এরপর তারা জানালেন তাদের বর্তমান ব্যস্ততার কথা। বিভিন্ন টিভি শো নিয়ে কাটছে ব্রাদার হুডের এ সময়। এরইমধ্যে বিভিন্ন শোতে একই প্লাটফর্মে তাদের সাথে পেয়েছেন দীপ্ত, ইমন, কণাসহ আরও অনেকে। তাদের স্বপ্ন হচ্ছে ব্রাদার হুডের প্লাটফর্ম যেন আরও প্রসারিত হয়। আমরাও চাই বাংলার সংগীত ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হবে তাদের এগিয়ে চলার গল্প নিয়ে।
