বিচার না পেলে আত্মাহুতির হুমকি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০০
বেতাগী উপজেলার পূর্ব রানীপুর গ্রামের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী এখন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সবসময় পড়ার টেবিলে ব্যস্ত এই মেয়েটির বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়াও। ২০১২ সালের ২৯শে এপ্রিল মেয়েটির জীবনে ঘটে যায় মহা বিপর্যয়। এলাকার চিহ্নিত কিছু বখাটে তাকে ধর্ষণ করে। দলে ছিল মঞ্জুর খলিফার ছেলে শাওন (২০), আশরাফ আলীর ছেলে বসির (২৫), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খলিফার ছেলে মনির হোসেন মনি (২৪) ও আউয়াল হাওলাদারের ছেলে পারভেজ(২১)। তাঁকে ঐদিনে তার আর্তনাদ কিছুতেই মন গলাতে পারেনি বখাটেদের। মোবাইলে তার কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়। তাকে বাধ্য করা হয় তার নিজের বিরুদ্ধেই কথা বলতে। তাকে দিয়ে বলানো হয়, সে তার প্রেমিকের সাথে অনৈতিক কাজ করেছে । এর পর ৩০ এপ্রিল ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করে ভিকটিমের মা। মনির ও বসিরকে পুলিশ আটক করলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় শাওন ও পারভেজ। তাদেরকে ধরতে পুলিশের খুব একটা তত্পরতা নেই। প্রভাবশালী হওয়ায় চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেয়া হয়েছে মনিরের। পরে নারাজি দিলে তদন্তের জন্য মামলাটি প্রথমে বরগুনা ও পরে বরিশাল সি.আই.ডির নিকট প্রেরণ করা হলেও সু-নির্দিষ্ট সাক্ষী-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সেখানেও মিথ্যা রিপোর্ট দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তার মা। অথচ মনিরই ছিলো এই ঘটনার অন্যতম ইন্ধনদাতা । ভিকটিমের পরিবার বলছে, অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে তদন্ত কার্যক্রম। এছাড়াও মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ভিকটিম বলেন, বিচার না পেলে সবাইকেই বিদায় জানিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে সে।