স্বদেশে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের জন্য। মৃত্যুর পর তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্বনেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে তার মৃত্যুতে ব্রিটেনের কিছু মানুষ প্রকাশ্যেই যেভাবে স্বস্তি এবং আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তা বিস্মিত করেছে অনেককে।
ব্রিটেনের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েও এক দশকের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সেই সাথে সমাজের যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি তার জন্য শুধু ব্রিটেন নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে সাড়া ফেলেছিলেন থ্যাচার। কিন্তু থ্যাচার একইসঙ্গে ছিলেন অত্যন্ত বিতর্কিত এক রাজনীতিক। বিশেষ করে তার বাজারমুখী কট্টর পুঁজিবাদী নীতির কারণে স্বদেশের বামপন্থীদের কাছে তিনি বরাবরই তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছেন। মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে এই রাজনৈতিক বিভাজন ছিল খুবই স্পষ্ট। ব্রিটেনে কিছু মানুষকে তার মৃত্যুতে যেভাবে খোলাখুলি স্বস্তি, আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে, সেরকম সচরাচর দেখা যায় না।
মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে ব্রিটেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ব্রিস্টল শহরে গত রাতে প্রায় ২০০ লোকের একটি আনন্দ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষে ৭ জন পুলিশ অফিসার আহত হয়। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেখানে আনন্দ অনুষ্ঠানের ডাক দেয়া হয়। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ লন্ডনের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত ব্রিক্সটন এলাকাতে এবং উত্তরে গ্লাসগোতেও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করে সমাবেশ হয়েছে ।
