বালুখেকোদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি কীর্তনখোলা নদীও

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৬
কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নগর সংলগ্ন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু। প্রতিনিয়ত একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে ঐ নদী থেকে নিয়ম না মেনে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। আইনের তোয়াক্কা না করে নগরী সংলগ্ন নদীতে কীর্তনখোলা নদী ছাড়াও মেঘনার হিজলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে শত শত ড্রেজার ব্যবসায়ী। ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদানের নিয়ম থাকলেও ইজারা না নিয়ে একশ্রেণীর বালু ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। সরকার এতে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। খোদ নগরীর অতি নিকটবর্তী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এলাকার দু’পাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে দিন-রাত দেদারসে বালু উত্তোলন করলেও তা যেন দেখার কেউ নেই। ফলে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে সদ্য নির্মিত এ সেতুটি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কীর্তনখোলা নদীর দু’টি বালু মহল এবার ইজারা দেয়া হয়েছে। ঐ স্থান দু’টি বাদ দিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা চরকাউয়া খেয়াঘাট, বেলতলা খেয়াঘাট, পলাশপুরের মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। চরবাড়িয়ায় বেলাতলা ফেরিঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়সূত্র জানায়, বালু মহল ব্যবস্থাপনায় সরকার যে নতুন আইন পাস করেছে তা ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ঐ আইনে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিধান রয়েছে। নৌ-বন্দর সীমার বাইরে নির্ধারিত নৌপথসমূহ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ কাজ পরিচালনা করবে। একইসাথে হাইড্রোগ্রাফিক চার্টের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনের নিমিত্তে ড্রেজিংয়ের এলাকা চিহ্নিত করে উক্ত স্থানের উত্তোলনযোগ্য বালুর পরিমাণ নির্ণয় করে হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট, তফসিলসহ মৌজা ম্যাপ ও প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট প্রদান করবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জেলা শাসক আইনের ৯ ধারা বিধান অনুসরণক্রমে উক্ত শ্রেণিভুক্ত নৌ-পথকে বালুমহল ঘোষণা করবেন। বালু উত্তোলনের ১৫ দিন পূর্বে ইজারাদার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ড্রেজার বা মেশিনসহ ক্লোটিং পাইপ লাইন স্থাপন শেষে ড্রেজিং শুরু করতে পারবে। কিন্তু এসব আইন প্রয়োগ বা বাস্তবায়নে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। ফলে বেহাল নৌপথ আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের কারণে। স্বাভাবিক গতি হারিয়ে নৌপথ একদিকে বসতভিটা কেড়ে নিচ্ছে অপরদিকে যত্রতত্র চর পড়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। নৌপথ সুরক্ষায় একের পর এক আইন পাস করা হলেও তার বাস্তবায়ন না থাকায় মহাদুর্ভোগ বাড়ছে নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।