রায়পুরায় বাঁশ শিল্পে চলছে চরম দুর্দিন। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে নিপুণ হাতের তৈরি হরেক রকমের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এক সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় পাঁচশ পরিবার বাঁশ শিল্পে জড়িত ছিল। তারা এ পেশায় থেকে সুন্দরভাবে সংসারের ভরণ-পোষণ চালিয়ে কিছুটা হলেও সঞ্চয় করতে পারতো; কিন্তু আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় রায়পুরা উপজেলা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। যারা বর্তমানে এ পেশায় জড়িত আছেন তারা বাপ-দাদার আদি পেশাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
জানা যায়, ৮/১০ বছর আগেও রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত পাঁচশ পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কারিগরের বসবাস ছিল চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামে। এসব গ্রামে কারিগরদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। যেমন, ঝুড়ি, পাতি, কোলা, চাল মাপার মোড়া, বসার মোড়া, মাছ ধরার চাঁইসহ কৃষি কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন সামগ্রী। এখানকার তৈরি এসব জিনিসপত্র উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারেও বিক্রি হতো। বেশ কয়েক বছর যাবত্ বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর উপস্থিতির কারণেই ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্পের বর্তমান এই দুরবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কারিগররা। এছাড়া ৮-১০ বছর আগে একটি বাঁশ ক্রয় করা যেত ৫০/৬০ টাকায়। আর এখন একটি বাঁশ কিনতে হয় ২০০/২৫০ টাকায়। ফলে প্লাস্টিকের বাজারে বেশি মূল্যে বাঁশের তৈরি সামগ্রী বাজারে আর তেমন বিক্রি হয় না। তাই বাধ্য হয়ে আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে অনেকেই অন্য পেশায় জড়িত হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে মাত্র ১৫/২০টি পরিবার তাদের বাপ-দাদার আদি পেশা ধরে রেখেছেন।
