মুশফিকের বড় স্বস্তি সাকিব-তামিম

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০০
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২০০৩ বিশ্বকাপের পর সম্ভবত সবচেয়ে বিপর্যস্ত সময় এসেছিল ২০১১ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে। চার বছর পর টেস্টে ফেরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে এবং ওয়ানডে সিরিজে হার তো ছিলই, এর চেয়েও বেশি আলোড়ন উঠেছিল মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের কথিত গ্রুপিং দ্বন্দ্ব, কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণ্ডগোল। আর এসবের জের ধরে দেশে ফিরেই অধিনায়কত্ব ও সহঅধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। তারপর দুই বছর কেটে গেছে। বাংলাদেশ সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে টেস্টে একটার পর একটা বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করা ম্যাচ খেলেছে, এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। কিন্তু দুই বছর পর আবার যখন বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে, তখন আবার আলোচনায় সেই সাকিব-তামিম! না, এবার আর কোনো নেতিবাচক কারণে নয়। বরং সেই জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর অধিনায়কত্ব পাওয়া মুশফিকুর রহিম কাল দেশ ছাড়ার আগে উল্লাসের সঙ্গেই বার বার সাকিব তামিমের নাম উচ্চারণ করলেন। কারণ, অবশেষে ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন দেশের সেরা দুই পারফরমার। তাই কাল ঢাকা ত্যাগ করার আগে মুশফিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বললেন, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার আগে আমরা অনেক কারণেই আত্মবিশ্বাসী। তবে সবচেয়ে বড় সাহসটা যোগাচ্ছে সাকিব আর তামিম। গত কয়েকটা সিরিজে ওদের আমরা পুরোপুরি পাইনি। সাকিব-তামিম দেশের লিডিং ক্রিকেটার। ওরা ড্রেসিংরুমে থাকলেও দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আশা করি, এবারও ওরা বড় ভূমিকা রাখবে।’ এই বিশ্বাস নিয়ে কাল দল নিয়ে হারারের উদ্দেশ্যে প্রায় দুদিনের যাত্রা শুরু করেছেন মুশফিকুর রহিম। এই সফরে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। জিম্বাবুয়েতে পৌঁছানোর ৫ দিনের মাথায়ই বাংলাদেশকে নেমে যেতে হবে প্রথম হারারে টেস্ট খেলার জন্য। এমনিতে গত সফরের তিক্ত স্মৃতি বাদ দিলে ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজে সবসময়ই বাংলাদেশ ফেবারিট থাকছে। অবশ্য মুশফিক কাগজ-কলমের এই ফেবারিট তত্ত্ব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি পরিষ্কার রেকর্ড ও নিজেদের সামপ্রতিক ফর্ম দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন, স্বাভাবিক খেলা খেললে জিম্বাবুয়ে থেকে সব ফরম্যাটেই জয় নিয়ে ফেরা সম্ভব, ‘গত এক বছর আমরা অসাধারণ ক্রিকেট খেলছি। এই সময়ে আমরা কয়েকটা সিরিজ খেলেছি আমাদের সেরা ক্রিকেটারদের ছাড়াই। ফলে আমরা এই সময়ে অনেক ম্যাচ উইনিং পারফরমার পেয়েছি। আবার উল্টোদিকে এই সময়ে জিম্বাবুয়ে তাদের সবগুলো ম্যাচ বাজেভাবে হেরেছে। ফলে আমরা ভালো ফলই আশা করছি।’ সাকিব বার বার বলছেন, এই আশার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে সাকিব-তামিমের ফেরা। সেইসঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, তরুণরাও বড় ভূমিকা রেখেছেন গত কয়েকটা সফরে। সেই তরুণদের ওপরও অধিনায়কের ভরসা নিতান্ত কম নয়। অভিজ্ঞ-তরুণ মিলিয়ে সাকিবের সবচেয়ে স্বস্তির জায়গাটা হলো ইনজুরির কবল থেকে তার ভরসার ক্রিকেটাররা মুক্ত হওয়াটা। তারপরও কিছু সংশয় রয়ে যাচ্ছে, ‘হ্যা, সাকিব হয়তো প্রথম টেস্টে বল করতে পারবে না, তামিমের প্রথম টেস্ট খেলাটা এখনও নিশ্চিত না। মাশরাফি ভাই টেস্টে ফিরছেন না এখনই। তবে আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। মাশরাফি ভাই ওয়ানডের আগে আশা করি ফিট হয়ে যাবেন। বাকিরাও ঠিকমতো পারফরম করবে বলে আশা করি।’ মুশফিকের এতোসব আশাবাদের মধ্যে একটা বড় সংকট হলো, জিম্বাবুয়েতে মানিয়ে নেয়া। মানিয়ে নেয়ার জন্য অনুশীলন ম্যাচ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সেটাকে খুব বড় করে দেখছেন না মুশফিক। তবে এটা মানছেন যে পেস বোলিং সহায়ক জিম্বাবুয়েতে পেসারদের দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়ার বিকল্প নেই, ‘আমরা উপমহাদেশের মতো আমাদের পছন্দের স্পিন-সহায়ক উইকেট পাবো না। তবে আশা করি আমাদের পেসার যারা আছে, তারা ওখানে খাপ খাইয়ে নিয়ে ভালো বল করতে পারবে।’ এই যে সব আশা, এর কোনোটা না হলে কী হবে তা অনুমান করতে পারেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরাজয়েও সমালোচনা হয় না। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি হারও হতে পারে বিপজ্জনক। এই চাপটা মেনে নিয়েই মুশফিক বলছেন, ‘চাপ তো আছেই। ভালো করার চাপ আছে। এটা মেনে নিয়েই ভালো করতে হবে আমাদের।’