সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের আহ্বান

ইসলামী বিধান নিয়ে অপব্যাখ্যা করে দেশকে অস্থিতিশীল করবেন না

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৩
সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দীন খানসহ দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম গতকাল বুধবার এক যুক্ত বিবৃতিতে ইসলামী বিধান নিয়ে অপব্যাখ্যা করে দেশকে অস্থিতিশীল না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন, দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্ত পাকাপোক্ত করতেই একশ্রেণীর নাস্তিক, মুরতাদ ও স্বঘোষিত বাম ভ্রান্ত বুদ্ধিজীবীদের ধারাবাহিকভাবে চক্রান্ত করতে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যখন এ দেশের সর্বস্তরের আলেম, ওলামা, পীর মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা সম্মিলিত আন্দোলনে মিলিত হয়েছে, সূচিত হয়েছে মুসলিম উম্মাহর মহাজাগরণ—তখনই ইসলামের চিরদুশমনরা বেশামাল হয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবি দীর্ঘদিন পূর্বে প্রকাশিত হলেও ৬ এপ্রিল মহাজাগরণের পর থেকে এটি নিয়ে হঠাত্ গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একমাত্র ইসলামী বিধানই সর্বস্তরের নারী-পুরুষের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। পর্দা সহকারে মা-বোনদের যে কোনো প্রয়োজনে বাইরে যেতে নিষেধ করেনি ইসলামী শরীয়ত। শরীয়তের সীমার ভিতরে যে কোনো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম করতে মা-বোনদের সব সময় উত্সাহিত করা হয়েছে। অথচ কতিপয় হতবুদ্ধির অধিকারীরা জ্ঞানপাপির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথায় পেলেন তারা নারীদের ঘরে আবদ্ধ রাখার অর্থহীন দাবি? কোথায় পেলেন তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতার স্বপ্ন? শরীয়া পর্দাকে যারা অপব্যাখ্যা করছে তাদেরও আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে তারা দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতেই থাকবে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের আহবায়ক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি শাইখ মাওলানা আবদুল মোমিন, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মাদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ এবং ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের যুগ্ম-মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুসলিম লীগ সভাপতি নূরুল হক মজুমদার, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, মুসলিম লীগ মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এমএ রশীদ প্রধান, ফরায়েজী আন্দোলনের আমীর মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ হাসান, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী কাশেমী, মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা লুত্ফর রহমান, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল মোমেন নাছেরী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বশর ও মহাসচিব শর্ষীনার পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, জাতীয় ফতোয়া বোর্ড সভাপতি প্রফেসর ড. মাওলানা ইহইয়ার রহমান, বাংলাদেশ আইম্মাহ পরিষদ সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এনামুল হক মূসা, জমিয়াতে ওলামায়ে দেওবন্দ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহাদ্দেস আবদুল্লাহ কাসেমী ও সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাশেমী, জমিয়তুল মুফাসসিরিন সভাপতি মাওলানা বেলাল হোসাইন ও সেক্রেটারি মাওলানা নূরুল আমীন, ইসলাহুল মুসলিমিন সভাপতি মুফতি আবুল বাশার, ইসলামের জনতা সভাপতি মুফতি আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।—বিজ্ঞপ্তি