‘সাবধান, সাবধান—হেফাজতে ইসলাম’, ‘নারীর ওপর নিপীড়ন-রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘ধর্মান্ধদের আস্তানা— ভেঙ্গে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগানে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার প্রকম্পিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ। প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা গতকাল প্রতিবাদ জানিয়ে এ সমাবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে তারা হেফাজতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মানব সভ্যতার এগিয়ে আসার পিছনে নারী-পুরুষ সবারই সমান অবদান রয়েছে। যারা নারীদের অবরুদ্ধ ?করতে চায় তারা আসলে দেশের প্রগতি এবং উন্নয়নের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নারী সমাজকে পিছিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র রুখে দিবে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারী অধিকার খর্বের চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না। দেশ যখন অগ্রগতির পথে হাঁটছে তখন নারীকে পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। কোন ভাবে তা মেনে নেয়া হবে না।
সমাবেশে ঘোষণাপত্রে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষা নাজমা শাহীন বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। এই ১৩ দফা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। সমাবেশ শুরুর আগে রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, কুয়েত মৈত্রী হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টিএসসিতে আসেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল টিএসসি থেকে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রেডিয়েন্ট বাংলাদেশ, নারী মুক্তি সংসদ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন— উপ-উপাচার্য(শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, শিক্ষক নেতা আ ব ম ফারুক, শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাজেদা বানু, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফরিদা বেগম, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক গুলশান আরা লতিফা, কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নীলুফার নাহার, সঙ্গীতশিল্পী মিতা হক, দেশের প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পিএইচডি গবেষক সারোয়ার হোসেন খান, ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি প্রমুখ।
