জিপিএ’র ভিত্তিতে নয়, পরীক্ষার মাধ্যমেই মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকার গত বছর মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে দেশব্যাপী পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। বেশ কিছু দিন ধরে চলে সভা সমাবেশ। শেষে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে গত বছর পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সেসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এবারই মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির শেষ পরীক্ষা হচ্ছে। আগামীতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। শিক্ষার্থীদের মাথায়ও ছিল এ বছর ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না। কিন্তু এরই মধ্যে চলছিল মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি কোচিং বাণিজ্য। বেশ কিছু কোচিং সেন্টার ছাত্র-ছাত্রীদের নিশ্চিত করে বলেছে যে, এবারও পরীক্ষার মাধ্যমে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নইলে গত বছরের মতো তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। আগের বছর ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে ভর্তি কোচিং শুরু করে দেয়।
এদিকে এ বছর মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির পদ্ধতি কী হবে এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। অভিভাবকরা প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফোন করে জানতে চাইতেন কী পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে? গতকালের সভার পর এর উত্তর পেলেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের এখন শেষ সময়, তাই এ ব্যাপারে নতুন কোনো ঝামেলার ঝুঁকি নেয়ার ইচ্ছা নেই সরকারের। এ কারণেই আগের নিয়মে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে আগে মেডিক্যাল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো না। ভর্তি পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে ৮০ এর দশকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, মেডিক্যাল কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রায় সবাই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির পক্ষে মত দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ. ফ. ম রুহুল হক বলেন, সভায় প্রায় সকলেই পরীক্ষার মাধ্যমে এবারও ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য মত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সরকারি ২২টি ও বেসরকারি ৫৪ টি মেডিক্যাল কলেজ এবং সরকারি ৮ টি ও বেসরকারি ৯ টি ডেন্টাল কলেজে একই সময়ে একই প্রশ্নপত্রে দেশব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ৩ হাজার ৪০ ও বেসরকারি মেডিক্যালের ৬ হাজার আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, আগের পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ কমপক্ষে ৮ থাকলে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার পর পরই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে।
