তুমি কি কবিতা পড়ো?
তুমি কি তোমার নিজের বাইরের
আর কিছুকে নিজের মনে করো?
একটা মাঠ মেঘ ধরতে
একটা চোখ দিক ধরতে
ছোট্ট শিশু দুধ ধরতে
পুলিশ যেমন চোর ধরতে
চায়
রোদের সীমানায়
তুমি কি তোমার দু-হাত দিয়ে
আর কিছুকে ধরো?
রোদের সীমানায়
বোধের সীমা নাই
তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছ
মনান্তরের বনান্তরে
ঢিব ঢিব ঢিব, শব্দ হচ্ছে
পাতা শরশর, খালিখালি
এবং খর্খর
উড়ে যাচ্ছে শুকনো পাতা
পাতায় ছাওয়া ঘরের ছায়া
উড়ে যাচ্ছে ঘরও
আবারও প্রশ্ন করি—
তুমি কি কবিতা পড়ো?
তুমি কি একটা স্বপ্ন লেখা কাগজ
ভাঁজ করে সেই ঘোরাচ্ছন্ন
উড়োজাহাজে চড়ো?
তুমি কি পোকা থেকে আজ
প্রজাপতি হবে না?
কবিতা পড়বে না?
আগুন ছোঁবে না?
যদি ‘না’ই বলো, তাহলে
বিকল্প প্রস্তাব হচ্ছে—
আমার সঙ্গে বুদ্বুদ হয়ে ওঠো
বুদ্বুদ হয়ে ফোটো
দীর্ঘজীবন, মুহূর্তক্ষণ, আমার মতোন
প্রতি মুহূর্তে বাঁচার জন্য প্রতি মুহূর্তে মরো
কিংবা কবিতা পড়ো
